বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকুক আজীবন

মো.শরীফ উদ্দিন                                                                                                              বন্ধুত্ব চলমান একটি প্রক্রিয়া। জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে আস্তা এবং নির্ভরতার বন্ধুত্ব স্কুলজীবনের সোনা বন্ধুরা। সেই সময় স্কুলজীবনে বন্ধুদের নিয়ে প্রাণখুলে হাঁসি, ঠাট্টা, গল্প, আড্ডা, খেলাধুলা আর বিভিন্ন তর্ক-বিতর্ক সহ গানে গানে কাটেছে আমদের সময়। তখন আনন্দময় দিনগুলো নানা আয়োজনে মেতেছি আমরা সবাই। এ ভাবে বিশ্বাস, ভালোবাসা, স্নেহ এসব একসাথে পারস্পরিক আত্নার দৃঢ়তা শক্তিশালী বন্ধনে রুপ নেয় বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তাই স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব অটুট থাকে আজীবন।

দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকায় বন্ধুদের মাঝে সাময়িক দুরত্ব মান অভিমানের কথাগুলো উঠে এসেছে। তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক অটুট রাখতে বন্ধুদের নিয়ে একটা পেইজবুক গ্রুপ (গ্রুপ ম্যাসেজ্জার) করা হয়। তখন মান অভিমান ভুলে ম্যাসেজ্জার সেটিং শুরু হয়েছে….হারামিরা কেমন আছিস…, কিরে হারামি কি করিস…। দাদা, নানা, মামা, খালু, শালা, দুলাভাই, ফটেটো, গাজর, বেনানা, লজ্জাবতী, কাল চান, চাঁদ,সূর্য, ধূর্বহ তারা, সাতরং ছদ্ম নামগুলো আবার উজ্জীবিত হলো।

স্মৃতিময় স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কমিডি অভিনয় করা, একক গান, গ্রুপ ভিত্তিক গান, শেষ শব্দ দিয়ে গান, আধুনিক, আঞ্চলিক গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালি, জারিগান… “শুধু গানা আর গান” সবার মনে পড়ে গেল। এখন আবার সবার মুখে মুখে সেই সব গানের সুর। সেরা মনের আর্কাণীয় হয়ে রয়েছে “বাদী-বিবাদী” নাটক এবং আর্শিবাদ আর অভিশাপ নিয়ে তর্ক -বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান।

এছাড়াও বাড়ী থেকে মরিচের জাল বাটা, কাঁঠালের মুচি,বরই, আম, আমড়া, জামরুল, কালোজাম, জলপাই, কলার মোছা, মুড়ি, চাল বাজা খাওয়ার জন্য স্কুলে নিয়ে আশা। ক্লাসে সবাই মিলে চকলেট, বার্মা আচার, চ্যাপিস খাওয়া, কোনো একজন না খেলে তেলেবেগুনে জ্বলে জানালা দিয়ে বাহিরে পেলে দাওয়া। রাগ, মান-অভিমানের কত যে স্মৃতির কথা উঠে এসেছে যা আজও কেউ ভুলতে পারেনি।

স্কুল বন্ধ দিলে একে অপরের বাড়ীতে গিয়ে বন্ধুদেরকে নিয়ে ঘুরাঘুরি করে আড্ডা দেয়া। বন্ধুদের বাড়ীতে খেজুর রসের পায়েস, সেমাই , কচি তাল, কচি ডাব, জাম্বুরা খাওয়া এবং বাসা-বাড়ীতে প্রকৃতির থরে থরে ফোটা ফুলগুলো চিনিয়ে নিতে উৎপেতে থাকা। রসিকতাময় বন্ধুদের নিয়ে স্মৃতি …, তুই শ্যালা কেমন সাধু জানি, অভিশাপ দিলাম তোর বিয়ে হবেনা। পা ধরে সালাম কর, যদি না করিস বুড়ো বয়সে কাল, কানা, লেঙরা কপালে জুটবে…ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো কত যে মধুর স্মৃতি রয়েছে স্কুল জীবনের বন্ধুদের নিয়ে যা বলে শেষ করা সম্ভব নয়।

অবশেষে কর্মজীবনে মনোবন্ধু কে, কোথায়, কি করছে? কার জীবন-যাপন কেমন যাচ্ছে জানতে পেরে বন্ধুর প্রতি বন্ধুত্বের দায়িত্ব কর্তব্য আরো ভেড়ে গেল। বন্ধুদের মাঝে দৃঢ় বন্ধনের লক্ষে একজন অন্যজনের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস রেখে আনন্দ-বেদনায় ভাগাভাগি করে নেয়া। এবং ভুল বোঝাবুঝি হলে সমসাময়িক খোলামেলা আলোচনা করে দ্রুত নিরসন করা। আজীবন বন্ধুত্ব বজায় রাখতে বন্ধুর জীবনে (সংকটে) সকল ক্ষেত্রে ছুটে এসে পাশে থাকবে এমনটাই সকলের প্রতিশ্রুতি।

কর্মব্যস্ত জীবনে বন্ধুরা চড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও হৃদয় থেকে দূরে নয়। এখন আবার যেন বন্ধুত্বের বন্ধন সজীবতায় ফিরে এল। সময়ের ব্যবধানে সম্পর্কের গুরুত্বে সাময়িক দুরুত্ব হলেও সবাই যেন হারানো কৈশোর ফিরে ফেল। করোনা পরিবেশ স্বাভাবিক হলে “মিলন মেলা” অনুষ্ঠান করতে বন্ধুরা খুবই আত্যন্তিক। সময়ের ব্যবধানে সু-বন্ধুদের নিয়ে সফল করা হবে ইনশাআল্লাহ। চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হয়না আসল প্রকৃত বন্ধুরা আবারও এমনটাই প্রমাণিত করতে যাচ্ছে।

বন্ধু হচ্ছে চাঁদের মতো। চাঁদনী রাতে যেখানে যাবে সঙ্গে যাবে চাঁদ। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাবে তুমি দূর আকাশ থেকে জানিয়ে দিবে চাঁদ, “বন্ধু আমি আছি, থাকবো, অনন্তকাল।” বন্ধুত্ব হচ্ছে উপলব্ধির বিষয়। এই উপলব্ধি সবাইকে দেয় সুখের পরশ। তাই সত্যিকার বন্ধুত্ব সম্পর্ক কখনোই বদলায় না, বদলায় সময়। আর এ বান্ধন অটুট থাকে আজীবন।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দরদী বন্ধুরা বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তোমরাও সুখের পরশ পেতে পার। তবে বন্ধুত্বের গুরুত্ব পেতে হলে আগে নিজেকে আন্তরিক হতে হবে। তাহলে ইচ্ছে শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, জুমঅ্যাপ, পেইজবুক গ্রুপে বন্ধুদের নিয়ে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারবে। আর তখনই বুঝবে বন্ধুত্বের জীবন কতইনা মধুর। ফিরে পাবে জীবনের সেই ফেলে আসা মুহূর্ত। আর তখনই অনুধাবন করবে ইশ…যদি আবারও স্কুল জীবনে ফিরতে পারতাম।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিস্ট।