ফেডারেশন কাপ: সেমিতে আবাহনী-রহমতগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিতে উঠেছে আবাহনী লিমিটেড ও  রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস এন্ড সোসাইটি।  দিনের  প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল শ্বাসরূদদ্ধকর। ৭ গোলের ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে রহমতগঞ্জ ।

অপর কোয়ার্টার  ফাইনাল ছিল আবার এক তরফা। আবাহনী ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে।

৬ ডিসেম্বর প্রথম সেমিতে রহমতগঞ্জ খেলবে মোহামেডানের  বিপক্ষে। দ্বিতীয় সেমিতে আবাহনী খেলবে সাইফ স্পোটিংয়ের বিপক্ষে।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ ও শেখ রাসেলের ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। নির্দারিত সময় খেলা ৩-৩ গোলে ড্র ছিল। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায়  একেবারে শেষ প্রান্তে ম্যাচের ১১৯ (৯০+৩০) মিনিটে আশরাফুল গোল  করে পুরান ঢাকার ক্লাবটিকে সেমিতে তুলে দেন।

নিধারিত সময়ের খেলায় রহমতগঞ্জ প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ২৮ ও  প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে ঘানার ফরোয়ার্ডো ফিলিপ আজাহ গোল দুটি করে রহমতগঞ্জকে এগিয়ে দেন ২-০ গোলে। এই লিড ৩-০ হতে পারত।

এমন কি হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন ফিলিপ। কিন্তু ৫১ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তিনি গোল করতে পারেননি। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন। এই পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়ার পর দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে শেখ রাসেল। তারা ২ গোল পরিশোধ করে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়েও যায়। ৬৩ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করেন ব্রাজিলিয়ান থিয়াগো এডুওয়ার্ড। ফ্রি কিক থেকে তিনি নিশানা ভেদ করেন।

খেলার শেষ ১০ মিনিটে সব উত্তেজনা আর নাটকীয়তা এসে ভর করে।  ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পরিশোধ করে  সমতা আনেন  কিরগিস্তানের ডিফেন্ডার আইজার আখমাতোভ। ৮৪ মিনিটে শেখ রাসেল এগিয়ে যায় এইলটন মাচাদোর গোলে। খেলা শেষ হতে তখন ৬ মিনিট বাকি। ম্যাচের পাল্লা শেখ রাসেলের দিকেই ঝুলে পড়ে।

সেমিতে খেলার স্বপ্নও দেখতে শুরু করে। কিন্তু ৮৯ মিনিটে তাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন রহমতগঞ্জের  সানডে চিজোবা গোল করে। ম্যাচের বাকি সময় গোল না হলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটে কোনো দল গোল করতে পারেনি। এমনকি ষে ১৫ মিনিটও এগুচ্ছিল ৩-৩ গোলে সমতার দিকে।

দুই দলের কোচরা খাতা-কলম নিয়ে টাইব্রেকারের চিন্ত-ভাবনা শুরু করে দিয়েছেন। ঠিক তখনই সব-কিছু ওলট-পালট করে দেন আশরাফুল। ১১৯ মিনিটে তিনি গোল করে  সবাইকে উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন। শেখ রাসেলের শিবিরে তখন পিনপতন নীরবতা।

দিনের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল এক তরফা। আবাহনীর  সামনে  দাঁড়াতেই পারেনি শেখ জামাল।  গুনে গুনে ৬ গোলহজম করে। প্রথমার্ধে আবাহনী ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। আবহনীর হয়ে  ব্রাজিলিয়ান ডোরিয়েলটন গোমেজ ও নাবিব নেওয়াজ জীবন ২টি করে এবং আরেক ব্রাজিলিয়ান  রাফায়েল অগাস্তো ও কোস্টারিকার কলিন্দ্রেস একটি করে গোল করেন।