ফজলে রাব্বী মিয়ার আসনে মনোনয়ন চান ছন্দা রাব্বী

মোঃ রাকিব হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার সদ্য প্রয়াত মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন তারই ছোটভাইয়ের স্ত্রী লুদমিলা পারভীন ছন্দা রাব্বী। ছন্দা রাব্বী শনিবার (১৩ অগাস্ট) নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফজলে রাব্বী মিয়ার ছোটমেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলীও আবার আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সত্য। নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি আমাকে মনোনীত করেন আমি নির্বাচন করবো। নির্বাচনের ফর্মটাও ওঠাবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কোনো সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচনের কথা সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে।

আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এক সময় জাতীয় পার্টির প্রভাব ছিল। ফজলে রাব্বী মিয়া নিজেও জাতীয় পার্টির হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন।

এদিকে আসনটিতে এবার মনোনয়ন চান ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলীও। তিনি কয়েক মাস আগে স্থানীয় ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে পা রেখেছেন। অন্যদিকে তার চাচী ছন্দা রাব্বী জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি।

একই পরিবার থেকে দুজনের প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে ছন্দা রাব্বী বলেন, ‘আমরা দুজনেই নমিনেশন ফর্ম নেব। সেক্ষেত্রে নেত্রী আমাদের যাকে ভালো মনে করবেন, তাকেই দেবেন।’

বুবলীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওর পদচারণা শুরু হয় সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে। খুব বেশিদিন আগের কথা না। চার-পাঁচমাস হলো আমরা ওকে পেয়েছি রাজনীতির অঙ্গনে। ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছিল সেটা আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা রাখতে চেয়েছি এই কারণে যে নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের (ফুলছড়িতে) একটা অংশ থাকা দরকার। এজন্য আমরা ওকে এখানে এনেছি।’

বুবলীকে ‘অন্য পরিবারের বউ’ মন্তব্য করে ছন্দা রাব্বী আরও বলেন, ‘ও তো এখন অন্য পরিবারের বউ। এখন আমাদের মেয়ে হলেও তার সিদ্ধান্তটা তার পরিবার (স্বামী পক্ষের) দেবে। যেমন আমার সিদ্ধান্ত আমার স্বামী দিয়েছেন।’

গাইবান্ধা-৫ আসনে এক সময় জাতীয় পার্টির প্রভাব থাকলেও গত কয়েক বছরে সেটি কমে এসেছে। মাহমুদ হাসান রিপন ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর এই অঞ্চলের তরুণদের ভেতর একটা প্রভাব সৃষ্টি করেন। ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদ সদস্য থাকার সময়ই সেখানে কাজ করছেন তিনি। গত কয়েকটি নির্বাচনে মনোনয়ন নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন।

রিপন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেন বলে পরিচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেই দিনগুলোতে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

গাইবান্ধার রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ছন্দা রাব্বীও রিপনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নৌকার মাঝি যদি বলেন, সে হলো রিপন। রাব্বিভাই যখন রাজনীতি করতেন তিনি তখন ছাত্রলীগের সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তখন থেকেই ভাইয়ের সঙ্গে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। এখন নৌকার মাঝিরা ছাড়াও আমাদের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদের নৌকার মধ্যেও অনেক, নৌকা ছাড়াও অনেক। ’

ছন্দা রাব্বী বলেন, ‘নৌকার মাঝি শুধু রিপনকে বলছি না। সে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সংযুক্ত ছিল, আমিও সংযুক্ত আছি। এখন নিউকামার (একদম নতুন) হিসেবে যোগ হয়েছে বুবলী।’

ছন্দা রাব্বী নমিনেশন চাইলেও না পেলে বিদ্রোহী হবেন না বলে জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘না পেলে নির্বাচন করবো না। নৌকার কাজ করবো। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র সৈনিক। নৌকা যে-ই আনুক আমি তার পক্ষে কাজ করবো।’

একই পরিবার থেকে দুজন প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। পারিবারিকভাবে কার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, জানতে চাইলে ছন্দা রাব্বী বলেন, ‘পারিবারিকভাবে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আমি ফজলে রাব্বী ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন রাজনীতি করেছি। তার অনুপ্রেরণায়ই মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছি। এরআগে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছিলাম।’

এই সিদ্ধান্তে পরিবার দুইভাগ হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবারটাকে আমি দুভাগ হতে দেব না। কারণ আমি সেই ৯০ সালে এই পরিবারে বধূ সেজে এসেছি। তখন থেকেই পরিবারটাকে একটা গাছের নিচে ধরে রেখেছি। আমার শাশুড়ি বেঁচে নেই। রান্নাঘর থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ- সব জায়গায় সহযোগিতা করেছি। রাব্বী ভাইয়ের যেকোনো কর্মকাণ্ডে আমি জড়িত ছিলাম। তার অসমাপ্ত কাজটা যাতে আমি সমাপ্ত করতে পারি সেদিকেই এগোচ্ছি।’

শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়ে ছন্দা রাব্বী বলেন, ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন গাইবান্ধায় রাজনীতি করছি, তাদেরই তিনি মনোনয়ন দেবেন। এটা আমার বিশ্বাস। যারা নতুন এসেছে, তাদের দেওয়ার মতো কোনো ভুল তিনি করবেন না। তিনি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না যে তার নৌকা হাতছাড়া হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে। আমি চাই রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা জড়িত, তাদের মূল্যায়নটা হোক। সেটা আমিও হতে পারি, রিপনও হতে পারে।’