প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেম্বেলেকে শাস্তি দিচ্ছে বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক: বার্সেলোনা ভেবেছিল ক্লাবে দুরবস্থায় এগিয়ে আসবেন উসমান দেম্বেলে। নতুন খেলোয়াড় ফেরান তোরেসকে নিবন্ধন করানোর পথ সহজ করতে বেতন কমিয়ে নতুন চুক্তি করবেন। কিন্তু ক্লাবকে হতাশ করে উল্টো বেতন বাড়াতে বলেছেন ফ্রেঞ্চ উইঙ্গার। তোরেসকে চুক্তিবদ্ধ করতে তাই বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। ফিলিপে কুতিনিওকে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় পাঠানোর পর স্যামুয়েল উমতিতিকে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ করিয়েছে বার্সেলোনা।

দেম্বেলের ওপর তবু আস্থা রেখেছিল বার্সা। বছরের প্রথম এল ক্লাসিকোতে তাকে একাদশে রেখেছেন কোচ জাভি। কিন্তু ক্লাবের সে চেষ্টার কোনো মূল্য দেননি দেম্বেলে। বার্সেলোনার দেওয়া চুক্তি নবায়নে প্রস্তাবে রাজি হননি। বার্সেলোনাও তাই খেপে উঠেছে। জুনেই চুক্তি শেষ হতে যাওয়া এই ফুটবলারকে চুক্তি নবায়নের আগ পর্যন্ত মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতালান ক্লাব।

বার্সেলোনার ফুটবল পরিচালক মাতেও আলেমানি বছরের শুরুতেই চমক দেখিয়েছেন। দেড় বছর ধরে বার্সেলোনার সঙ্গে নাছোড়বান্দার মতো আচরণ করেছেন উমতিতি। তাকে আর দলের জন্য প্রয়োজনীয় ঠেকছিল না ক্লাবে। কিন্তু উচ্চ বেতনের জন্য এই ডিফেন্ডারকে বিক্রি করতে বা ধারেও পাঠাতে পারছিল না বার্সেলোনা। ওদিকে উমতিতিও গোঁ ধরে বসেছিলেন। দরকার হলে না খেলে চুক্তির বাকি সময়টা কাটিয়ে দেবেন, কিন্তু বেতন কমাবেন না। সেই উমতিতিকেই কি না বেতন প্রায় ৭০ ভাগ কমাতে রাজি করিয়েছেন আলেমানি।

বার্সেলোনা সমর্থকরা তাই দেম্বেলের ক্ষেত্রেও এমন কিছু দেখার আশা করছিলেন। কিন্তু দেম্বেলের যে উচ্চাশা অনেক। বার্সেলোনা যেখানে বেতন কমিয়ে চুক্তি নবায়ন করতে বলছে তাকে, সেখানে দেম্বেলে দাবি করেছেন প্রায় দ্বিগুণ বেতন! করসহ পাঁচ বছরের নতুন চুক্তিতে ২০ কোটি ইউরো বেতন চেয়েছেন দেম্বেলে। সে সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করার বোনাস হিসেবে নিজের জন্য ২ কোটি ইউরো চেয়েছেন, তার এজেন্ট মুসা সিসোকোর জন্য চেয়েছেন আরও ২ কোটি ইউরো। বার্সেলোনা ও ফ্রান্সের বিশ্বস্ত সব সাংবাদিক দেম্বেলের এই দাবির কথা প্রকাশ করে দিয়েছেন।

দেম্বেলের দাবি শুনে বার্সেলোনা খেপে উঠেছে। সাংবাদিক জেরার্দ রোমেরো বলছেন, বার্সেলোনা খেলোয়াড়ের এজেন্টকে হুমকি দিয়েছে ক্লাবের প্রস্তাবে রাজি না হলে ৩০ জুন পর্যন্ত আর মাঠে নামানো হবে না দেম্বেলেকে। এই হুমকিতে দেম্বেলে ভয় পেতেই পারেন। হাজার হলেও এটা বিশ্বকাপের বছর। এই সময়ে ছয় মাস মাঠে না নামা এক খেলোয়াড়ের পক্ষে ফ্রান্সের মতো পরাশক্তির বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন।

এদিকে কোচ জাভি দলে এমন কাউকে চান না, যাকে কখনো ব্যবহার করা যাবে না। এমন খেলোয়াড় থাকলে দলের আবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে এই জানুয়ারিতেই দেম্বেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার বা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব উঠছে।

এখন পর্যন্ত যা ইঙ্গিত, তাতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচটিই বার্সেলোনার জার্সিতে দেম্বেলের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকছে।