প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ১২ মিটার উচ্চতায় হবে চট্টগ্রাম কালুরঘাট সেতু

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তেই জট খুলল কালুরঘাট সেতুর। কর্ণফুলী নদীতে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতু ১২ মিটার উচ্চতায় করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত রোববার সেতুর উচ্চতা নিয়ে ঢাকাস্থ সেতু ভবনে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের (রেলওয়ে ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএর অনড় অবস্থানের পর সন্ধ্যায় উভয়পক্ষ গণ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় রেলমন্ত্রী নিজে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে এই বিষয়ে নির্দেশনা চান। প্রধানমন্ত্রী আইনগত দিক ও টেকনিক্যাল সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ১২মিটার উচ্চতায় সেতু নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন।

উচ্চতা নিয়ে আপত্তি, বাড়তি অর্থ নিয়ে দাতা সংস্থার পিছুটান, রেলসেতু নাকি রেল কাম সড়ক সেতু হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতাসহ নানা সংকটের পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে কর্ণফুলীর ওপর নতুন কালুরঘাট সেতু। রেল কাম সড়ক সেতুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর বাড়তি টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণে রাজি হয়েছে কোরিয়া।

গত ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতুর দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।  দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ৯ সদস্যের টিম সেতুর উভয় পাশ পরিদর্শন করেছেন। এর আগে সিআরবিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে মিটিং করেন। এই মিটিংয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবিরসহ ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সরেজমিনে ফিল্ড সার্ভে করে দেখার জন্য কালুরঘাট সেতুতে যান। সেখানে তারা সেতুসহ উভয় পাশের রেললাইন এবং গাড়ি চলাচলের জন্য উভয় পাশের সংযোগ সড়কের জায়গা পরির্দশন করেন।

প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, এখন নতুন করে ড্রয়িং-ডিজাইন সব করতে হবে। সেতুর ব্যয়ও তিন-চার গুন বেড়ে যাবে। আগে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শুরুর যে প্রস্তুতি ছিল সেই প্রস্তুতিতে এখন কাজ শুরু করা যাবে না। বর্তমান নকশা অনুযায়ী বিদ্যমান পুরনো রেলওয়ে সেতুর ৮০ মিটার উত্তরে তৈরি হতে যাচ্ছে নতুন সেতুটি। নতুন সেতুর প্রস্থ হবে ২০ ফুট, আর লম্বা ৭৮০ মিটার। ৯টি থাম বা স্প্যান দিয়ে এ সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতুটিতে নৌযান চলাচলের জন্য এখন পর্যাপ্ত উচ্চতা ও স্পেস রাখা হবে। ফলে সেতুর নিচে জাহাজ চলাচলে কোন অসুবিধা হবে না। সেতুটি নির্মিত হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারসহ সারাদেশের সাথে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিবহনসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করা যাবে। তাছাড়া সেতুর ডাবল লাইন সড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে চলবে যানবাহন। সেতু সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, এ সেতু দিয়ে ১২০ কিলো স্পিডে ট্রেন আর ৬০ কিলো স্পিডে গাড়ি চলতে পারবে।

এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবির আমার সময়কে জানান, কালুরঘাটে নতুন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। সেই লক্ষে তারা সেতুর দুইপাশের রেললাইন এবং ব্রিজসহ ৪ কিলোমিটার এবং গাড়ি চলাচলের জন্য দুই পাশে দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক পরির্দশন করেছেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। তারা দুপুর ২টা পর্যন্ত সেতুর উভয় পাশে রেললাইন এবং সড়ক লাইনের স্থান পরির্দশন করেন। তারা চট্টগ্রামে মিটিং করেছে। ঢাকায়ও মিটিং করেন । অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী ১২ দশমিক দুই মিটার উচ্চতায় নকশা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী সেতু হবে।

যে কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলো: বিআইডব্লিউটিএ আপত্তির জানানোর পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী রেল কর্মকর্তাদের নতুন নকশা তৈরির নির্দেশ দেন। তখন রেল কর্মকর্তারা কেবল রেল সেতুর নকশা প্রণয়ন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দারা আন্দোলনে নামেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত মঈনুদ্দিন খান বাদল ২০১৯ সালের ২৬ জুন সংসদ অধিবেশনে সে বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি না হলে পদত্যাগের হুমকি দেন। ওই বছরের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী কালুরঘাট সেতুর অগ্রগতি জানতে চান। রেল কর্মকর্তারা কেবল রেল সেতুর নকশা দেখান। তখন রেল কাম সড়ক সেতুর নকশা না করার কারণ জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। রেল কর্মকর্তারা নতুন নকশা তৈরির নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রেল কাম সড়ক নেতুর নকশা চেয়েছিলাম। এরপর রেল কর্মকর্তারা আবার নতুন নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন বলেন, আসলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বুঝতে না পারায় কেবল রেল সেতু নকশা করা হয়েছিল। পরে রেল কাম সড়ক সেতুর নকশা করা হয়েছে।

উল্লেখ কালুরঘাট রেলকাম সড়ক সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে সেতু বাস্তবায়ন কমিটি ও এলাকাবাসী চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দীন আহমদ শপথ নেয়ার দিনই সড়কে দাড়িয়ে বলেন জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে কালুরঘাট সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি শুরু থেকে জোর তদ্বির ও তৎপরতা চালিয়ে যান যার কারণে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়।