প্রথম দিন বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড সমানে সমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতেই আঘাত হেনেছিল বাংলাদেশ দল। ইনিংসের ২১তম বলে, দলপতি টম লাথামকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। এটি ছিল শরিফুলের দ্বিতীয় ও ইনিংসের চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বল। উইকেটের পেছনে তার ক্যাচ ধরেন লিটন দাস।

লাথামের রান ছিল ১, দলেরও ১। এরপর শুরু হয় নিউ জিল্যান্ডের প্রতিরোধ। যে প্রতিরোধে স্বাগতিকদের পায়ের তলার মাটি হয়ে যায় শক্ত। যেখানে দাঁড়িয়ে তারা দেখছিল বড় ইনিংস গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু শেষ সেশনে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ। কনওয়ের (১২২) কামব্যাক সেঞ্চুরিতে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম দিন শেষে সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫৮। হ্যানরি নিকোলাস ৩২ রানে অপরাজিত।

নতুন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আগামীকাল দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামবেন তিনি। বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন শরিফুল। তিনি ৫৩ রানে নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন এবাদত ও মুমিনুল।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা নিউ জিল্যান্ড শুরুতেই উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি সামাল দেন উইল ইয়াং ও ডেভন কনওয়ে। তাদের প্রতিরোধের সামনে ধীরে ধীরে কমতে থাকে বাংলাদেশের বোলারদের আধিপত্য। সময় যত গড়িয়েছে স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানদের প্রভাব বেড়েছে। প্রথম সেশনে রান উঠেছে ১ উইকেটে ৬৫। দ্বিতীয় সেশনে বেড়ে উঠে ১ উইকেট হারিয়ে ৮২। শেষ সেশনে সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১১১। দিন শেষে সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫৮।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে টস জিতে দলপতি মুমিনুল বোলারদের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। শুরুতেই আঘাত হানার পাশপাশি প্রথম ঘণ্টা বেশ ভালোই শাসন করেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে উইকেটে স্থির হয়ে যান ইয়াং ও কনওয়ে। জুটিতে তারা ১৩৮ রান যোগ করেন।

পরে জুটি ভেঙে ইয়াং রান আউট হলেন। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ইয়াং ফ্লিক করে মিড উইকেটে খেলেছিলেন। দ্রুত এক রান নিতে চেয়েছিলেন ইয়াং। কিন্তু কনওয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন। ইয়াং অবশ্য ফিরে যেতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্তর নিখুঁত থ্রোতে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন উইকেট কিপার লিটন দাস।

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা রস টেলর খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। ৩১ রানে তাকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। কনওয়ের সঙ্গে জুটিতে রান আসে ৫০। কনওয়ে ১৮৬ বলে করেন সেঞ্চুরি। তার ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও একটি ছক্কা। সেঞ্চুরি করার পরে বেশিদূর যেতে পারেননি। নতুন বলে ১২২ রানে কাটা পড়েন বাংলার সেনাপতি মুমিনুলের শিকার হয়ে। কনওয়ে যখন আউট হন, তখন দলের রান ৪ উইকেটে ২২৭। বেলা শেষের দিকে বাংলাদেশ সাফল্য তুলে নেয় টম ব্লুন্ডেলকে আউট করে। তাকে ১১ রানে বোল্ড করেন এবাদত। এ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ দল নিউ জিল্যান্ডকে দিনটি তাদের করে নিতে দেয়নি।

নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের নেই কোনো জয়। এমন কি ড্রও। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে এবারও জয়ের আশা তিরোহিত। ড্র করাটাই যেন অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠবে। সেই দৃষ্টিকোন থেকে বাংলাদেশ সেরা একাদশ সাজিয়েছে লম্বা ব্যাটিং লাইন নিয়ে। ৭ ব্যাটসম্যান আর ৪ বোলার। অবশ্য ৭ ব্যাটসম্যান নিয়ে বাংলাদেশ নতুন খেলে না। সব সময়ই খেলে থাকে।

৭ ব্যাটসম্যান হলেন সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, ইয়াসির আলী। তিন পেসার- তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম এবং স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। নিউ জিল্যান্ড দলে চার পেসার ও এক স্পিনার এবং উইকেটকিপারসহ ব্যাটসম্যান ৬ জন।