পর্যটন শহরকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে মাঠে শহর পুলিশ ফাঁড়ি কাজ করে যাচ্ছে 

দিদারুল আলম সিকদার সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ পর্যটন শহর হিসেবে খ্যাত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার কে ঘীরে দীর্ঘদিন ধরে জেলার এবং বহিরাগত অপরাধীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে  আসছে৷ এ বিষয়ে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান স্যারের নির্দেশনায় শহরের সর্বোচ্চ চিন্থিত সন্ত্রাসীদের আস্থানা, দীর্ঘদীন ধরে পর্যটন স্পর্ট গুলোতে যারা সন্ত্রাসী, ছিনতাই, খুন, কিশোর গ্যাং তৈরীসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছেন তাদের দমন করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৷ ইতি মধ্যে শহর পুলিশ ফাঁড়ি অপরাধ দমনে শীর্ষ ভূমিকা রাখায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহন করেছেন৷
সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মে, জুন মাসে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন কে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিয়েছেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ রফিকুল ইসলাম৷
আমাদের পেশা দারিত্ব এবং নীতি নৈতিকতা নিয়ে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় এলাকার মানুষের সহযোগিতায় আশা করি কক্সবাজার শহরকে অপরাধ মুক্ত এবং সন্ত্রাস মুক্ত করতে পারব ইনশাআল্লাহ৷
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে পর্যটন শহরের বিভিন্ন অপরাধের বিষয় নিয়ে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সাথে সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা জানান৷
শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, আমি ২০২০ ইং সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করি৷ আমি আশার পরে এবং পূর্বের শহরের অপরাধের বিভিন্ন উল্লেখ যোগ্য তথ্য শুনে নিজেই একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলাম৷ কিভাবে এ শহর কে এত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত করা যাবে৷ নিলাম শপৎ এবং নীতি নৈতিকতা নিয়ে আল্লাহর উপর সর্বোচ্চ আস্থা এনে জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান স্যারের সাথে শহরের বিভিন্ন অপরাধ দমন কিভাবে করা যায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ করি৷
আনোয়ার হোসেন আরো জানান, শহরকে সন্ত্রাস এবং অপরাধ মুক্ত করতে এসপি স্যারের সব পরামর্শ এবং নির্দেশনা নিয়ে মিশনে নামি মাঠে৷ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে সব সময় শহর পুলিশ ফাঁড়ি নিরলসভাবে স্বচ্চতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রামন: এক বছরের ভেতর৷
*পেশাদার ছিনতাকারী গ্রেপ্তার ৫০ জন৷
*কিশোর গ্যাং সদস্য ২০ জন৷
*ডাকাত ১২ জন৷
*শীর্ষ সন্ত্রাসী ১৫ জন৷
*১ টি অস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি৷
*একটি পিস্তল, ৩ রাউন্ড৷
*একটি এলজি বন্দুক, ৫ রাউন্ড গুলি৷
*ইয়াবা ৯ হাজার ৫০০ পিছ৷
*ইয়াবা সেবনসহ মাদকে জড়িত ২০ জন৷
*১ হাজার লিটার মদ৷
*জাল টাকাসহ ২ জন৷
*পেশাদার ছুর ১০ জন৷
*মোবাইল, টমটম,ল্যাপটপ উদ্ধার৷
শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন আরো জানান, কক্সবাজার জেলা জুড়ে যে সন্ত্রাসীর নাম শুনলে মানুষ সর্বদা আতঙ্কে থাকত সে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান সাদ্দাম কে ও আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়৷
অনুসন্ধানে জানাগেছে, কক্সবাজার পৌর শহরের সর্বোচ্চ হত্যা, খুন, ছিনতাইকারীর আস্তানা ছিল দক্ষিন রুমালিয়ারছড়া, কলাতলী লাইট হাউস, দক্ষিন সাহিত্যিকা পল্লী, যেখানে প্রতিনিয়ত ছিনতাই, খুন, হত্যাসহ বড় বড় অপরাধ সংঘঠিত হতো৷
দক্ষিন রুমালিয়ারছড়া সমাজ কমিটির সভাপতি জানান, আমরা এখন নিরাপদে ঘুমায়, যেখানে যুগের পর যুগ আতঙ্কে বসবাস করতাম৷ জেলার পুলিশ সুপার, শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনসহ জেলা পুলিশের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞা এবং ধন্যবাদ জানাই৷
লাইট হাউস এলাকার বিষয়ে ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহেদ আলী শাহেদ জানান, আগে যেভাবে সন্ত্রাসীরা দিন দুপুরে অপরাধ চালাত৷ এখন অনেকটা কমে গেছে৷ পুলিশ প্রশাসন কে ধন্যবাদ৷
দক্ষিন রুমালিয়ার ছড়ার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ব্যারিষ্টার আবুল আলা ছিদ্দিকী জানান, শহর পুলিশ ফাঁড়ি হওয়ার পর থেকে সাধারন মানুষ নিরাপদে এবং নির্ভয়ে বাড়িতে যায়, যেখানে মানুষ বাজার নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় অনেক ছিনতাই এবং সন্ত্রাসীদের কবলে পড়তো
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, পর্যটন শহরকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করতে শহর পুলিশ ফাঁড়ি দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে৷ আমাদের কাছে অপরাধ, সন্ত্রাসীদের কোন জায়গা নেয়৷