নড়াইল জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক ভিক্টিম উদ্ধার, গ্রেফতার -৪

সাজ্জাদ তুহিন নড়াইল প্রতিনিধি:  নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় পিপি এম (বার) এর নির্দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের প্রযুক্তির ব্যবহারে

আউড়িয়া স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ তাবাছুম খাতুন (১৪) কে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মামলার বাদী মোসাঃ পারুল খাতুন (২৮) নড়াইল জেলা সদর থানার আউড়িয়া গ্রামের পিতা-আকছের মোল্লা, স্বামী-তুহিন মোল্লা,নড়াইল সদর থানায় হাজির হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন আসামীদরে বিরুদ্ধে এজাহার অভিযোগ করেন যে, তার নাবালিকা মেয়ে মোছাঃ তাবাছুম খাতুন (১৪), আউড়িয়া সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল এর ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

সে গত ৫ জানুয়ারী ২০২২ তারিখ রাত ০৮টার দিকে  বাদীর মেয়ে বাড়ী হইতে নড়াইল সদর থানাধীন বাদীর ভাই হাসিব মোড়ল এর বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। কিন্তু রাত্র ১০ টা বেজে গেলেও বাদীর নাবালিকা মেয়ে তাবাছিম আর বাড়ী ফিরে না আসলে বাদীর ভাই হাসিব মোড়ল এর বাড়ীতে খবর নিতে যায়।

খোজ নিয়ে দেখে বাদীর মেয়ে মামা বাড়ী যায় নাই। বাদীর নিকটতম আত্মীয় এবং পাড়া প্রতিবেশি সবার সাথে যোগাযোগ করে কোথাও তাকে পাওয়া যায় নাই। এর পরদিন ৬ জানুয়ারী সকাল সাতটার দিকে বাদীর মোবাইলে ফোন আসে বাদী ফোন রিসিভ করতেই বাদী তার মেয়ের কন্ঠ শুনতে পায় সে বলে মা আমাকে কয়েকজন ছেলে মুখে রুমাল বেধে তুলে নিয়ে এসেছে কোথায় আটকে রেখেছে এতটুকু জানতেই ফোন কেটে যায়। পুনরায় উক্ত নাম্বারে ফোন করলে ফোন বন্ধ পায়।

পরবর্তীতে খোঁজা খুজির এক পর্যায়ে লোক মুখে জানতে পারেন যে, বাদীর নাবালিকা মেয়ে মোছাঃ তাবাছুম খাতুনকে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি নড়াইল সদর পৌর এলাকার বৌ-বাজার পাগলের বটতলা নামক স্থান হইতে ওই ৫ জানুয়ারী রাত সাড়ে ০৮টার দিকে একটি  ইজিবাইকে করে তুলারামপুর দিকে নিয়ে যায়।

বাদীর নাবালিকা মেয়ে তাবাছুম খাতুনের কাছে ঘটনার দিন ০১টি মোবাইল ফোন ছিল। যাহার মূল্য অনুমান ৮,৬০০/-(আট হাজার ছয়শত) টাকা সহ বাদীর কন্যাকে নিয়ে চলিয়া যায়। অনেক খোজাখুজির পর না পেয়ে গত ০৯ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় পিপি এম (বার) কে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি অফিসার ইনচাজ নড়াইল থানাকে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন, এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় ০৯ ফেব্রয়ারী ২০২২ তারিখে একটি   মামলা করে, যার নং-০৬/৩৮।

ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৩০ রুজু হলে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জনাব শিমুল কুমার দাস পুলিশ সুপার নির্দেশে দ্রুত ভিকটিম উদ্ধার এবং আসামী গ্রেফতারের জন্য সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল টিমকে নির্দেশ প্রদান করেন।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল নড়াইলে কর্মরত এএসআই(নিঃ)/মোঃ কামাল হোসেন উক্ত মামলার ভিকটিম উদ্ধারের জন্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ভিকটিম উদ্ধারসহ ৪জন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।