নড়াইলে লাঞ্ছিত অধ্যক্ষকে ৪৬ দিন পর ফুলের মালা দিয়ে বরণ

সাজ্জাদ তুহিন নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস কে অবশেষে ৪৬ দিন পর আনুষ্ঠানিক ভাবে ফুলের মালা পরিয়ে বরন করে নিলেন কলেজ কতৃপক্ষ।

৩ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০ টার দিকে লাঞ্ছিত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস কলেজে এলে সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী ও জিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের মাননীয় সাংসদ সদস্য (এমপি) কবিরুল হক মুক্তি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুস সালাম হাওলাদার, রেজিস্টার মোল্যা মাহফুজ, পরিচালক আইন সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক কলেজ মনিটরিং এন্ড ইভুলেশন রফিকুল আকবর,

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডঃ সুবাস চন্দ্র বোস, কলেজের সভাপতি অ্যাডঃ অচীন কুমার চক্রবর্তী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুক, জিবি সদস্য, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার আবেগে অপ্লুত ভরা কন্ঠে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সেদিনের ঘটনা আমার জীবনে একটা চিরো স্মরণীয়-ঘটনা। তবে ওইদিন যদি কলেজের সভাপতি বিসয়টা নিজে থেকে সমাধানের চেস্টা করতেন হয়তোবা এমন পরিস্থিতি নাও হতে পরত। তবে এবিসয়ে আমি চিরো কৃতজ্ঞ আমাদেরই কলেজের শিক্ষক হুমায়ুন কবির রিন্টুর কাছে। কারন তিনিই একমাত্র যে সবসময়েই আমার ও আমার পরিবারের খোজ খবর রেখেছেন।

উল্লেখ্য, মির্জাপুর কলেজের এক ছাত্র ফেসবুকে ভারতের বিজেপির বহিস্কৃত নেত্রী মহানবী (সাঃ) কে কটুক্তিকারী নূপুর শর্মাকে প্রনাম জানিয়ে মির্জাপুর কলেজের এক ছাত্রের পোস্ট দেয়ার ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে ১৮ জুন এক সহিংস ঘটনার পর কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসসহ কলেজ ছাত্র রাহুলকে সবার সামনে জুতার মালা পরিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়।

এর পর কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়। এঘটনায় ঐ ছাত্রের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরসালিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৭০-১৮০ জনের নামে মামলা দায়ের করে।

এ মামলায় এ পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার আছে। এরা সবাই এখন কারাগারে। এর মধ্যে মির্জাপুর কলেজের ছাত্রই রয়েছেন চারজন। এসব ছাত্ররা হলো মির্জাপুর গ্রামের মেজবাউর রহমানের ছেলে সাব্বির রহমান, আফজাল শেখের ছেলে রিপন শেখ রিপু, রহমান শেখের ছেলে রায়হান শেখ ও চুনখোলা গ্রামের আফসারুল কাজীর ছেলে জহিরুল কাজী।