নড়াইলে প্রবাসীর স্ত্রী পরকীয়ায় প্রেমিকের হাত ধরে চম্পট, অতঃপর মানব বন্ধন।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে পরকিয়া প্রেমের টানে প্রেমিকের হাত ধরে প্রবাসীর স্ত্রী চম্পট। দেশে ফিরে স্বামী ইমরুল লস্কর হতবাক।

স্থানীয় ও এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর পর গত ৯ জানুয়ারী (রবিবার) সৌদি আরব থেকে নিজ গ্রামে ফিরেছেন নড়াইল কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের বিলবাউস গ্রামের ইমরুল লস্কর। বাড়িতে এসে দেখেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাড়িতে নেই। বাড়ির প্রধান ফটোকে তালা ঝুলছে।

পরে স্ত্রী ফাতেমা বেগম স্বামীর আসর খবর জানতে পেরে প্রেমিকের হাত ধরে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে স্ত্রী ফাতেমা বেগম। এ খবর শুনে হাহুতাস করতে থাকেন ইমরুল লস্কর। ইমরুল লস্কর বিলবাউস গ্রামের মৃত ইয়ার আলী লস্করের ছেলে এবং স্ত্রী ফাতেমা বেগম একই গ্রামের আলহাজ্ব হাসেম শেখের মেয়ে।

ইমরুল লস্কর এবিসয়ে সাংবাদিক দের জানান, ২০০২ সালে একই গ্রামের আলহাজ্ব হাসেম শেখের মেয়ে   ফাতেমা বেগমের সাথে তার বিয়ে হয় । বিয়ের পাঁচ বছর পর স্ত্রী ফাতেমা বেগম কে নিজ বাড়িতে রেখে ২০০৭ সালে তিনি সৌদি চলে যান। বিদেশ থেকে তিনি  ৯৭ লক্ষ টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠান । এছাড়াও ১৩ শতক জমি কেনা হয় যা ফাতেমা নিজের নামে লিখে নেন। তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন লস্কর।

প্রতিবেশী মুজিবর মোল্যা বলেন, কয়েকদিন ধরেই গেটে তালা দেওয়া । তারা ভেবেছিলেন হয়তো ফাতেমা বাবার বাড়িতে রয়েছে। কিন্তু আজ জানতে পারলেন ফাতেমা পালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কালিয়ার চাঁদপুর গ্রামের বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি কবিরের সাথে তার একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। প্রায় ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিলো কবিরের।  ফাতেমা কবিরের সাথে পালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শুধু মুজিবরই নয়, এ ধরণের অভিযোগ করেন গ্রামের আরও অনেকে।

এদিকে, ইমরুল লস্করের প্রতিবেশীরা ফাতেমা বেগমের অমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।৯ জানুয়ারী (রবিবার) তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে মুজিবর মোল্যা, লিটন লস্কর, আব্বাস লস্কর, মনিরুল লস্কর, মিজানুর লস্কর, লাভলী বেগম, ফাতেমা বেগম, শারমিন সুলতানা সহ অনেকে ফাতেমাকে আটকের দাবি জানান।

এ বিষয়ে ফাতেমা বেগমের পিতা হাসেম মোল্যার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফাতেমা কোথায় গেছে তারা জানেন না। তবে  নগদ টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেমার মা বলেন,৯৭ লক্ষ টাকা হবে কিনা জানিনা। তবে ফাতেমার  নামে টাকা পাঠিয়েছে লস্কর এছাড়া বাড়ি ও জমি ক্রয় করে দিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কনি মিয়া শেখ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।