নিষ্কাশনের অভাবে বৃস্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল বোর ধান।

উল্লাপাড়া(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধিঃসিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সলপ ও পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের মৌজায় দুবলাই/ ভেদুরিয়া  বিলে চলতে মৌসুমে রোপন করা বোরো ধান গত শুক্রবারের প্রবল বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে।

দুথসপ্তাহ আগে এই বিলের জমির মালিক ১’শ জন কৃষক সেচ যন্ত্র লাগিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন করে বোর ধান রোপন করে ছিলেন।

বৃষ্টিতে সব ধানই ডুবে গেছে। শুধু পানি নিষ্কাশনের অভাবে দীর্ঘদিন হলো এই বিলের জমির মালিকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্দিন।

উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ও পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের আওতায় শাহজাহানপুর, মাটিকোড়া, সলপ চৌধুরীপাড়া,বাহিমানের গ্রামের পাশে দুবলাই বিল অবস্থিত।

বিলপাড়ের শাহজাহানপুর,মাটিকোড়া,জোলাহাটি, হাবিবগঞ্জ ও বাহিমান গ্রামের ১’শ জন কৃষকের প্রায় ২’শ বিঘা জমি রয়েছে এই বিলে। এরমধ্যে সলপ ইউনিয়নের আওতায় রয়েছে প্রায় ১’শ ৫০ বিঘা জমি। ৫০ বিঘা জমি পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের শাজাহানপুর ও মাটিকোড়া গ্রামের কৃষকদের।

পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বিলটি বছরের প্রায় ৭ মাস পানির নিচে ডুবে থাকে।

প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে বিলপাড়ের মানুষ সেচযন্ত্র চালিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন করে ধানের বীজতলা ও বোরো ধানের চাষ করে থাকেন। উচু অংশে সরিষার চাষ করা হয়। কোন কোন বছর ধানা কাটা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে পাকা ধানও ডুবে যাওয়ার অনেক নজির আছে তাদের।

দুবলাই বিলপাড়ের মানুষ জানান পূর্বে করতোয়া নদীর সংযোগ কেনেল ছিলো।এই কেনেলটি সলপ ষ্টেশন ও শাহিকোলার দওয়ের সাথে সংযোগছিলো।এই কোনেলটি ওরাসাগরের কেনেল নামে পরিচিত ছিলো।এই কেনেল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচল করতো। কালের বিবর্তনে মানুষ কেনেলটি বন্ধ করে সড়ক ও আবাদি জমি তৈরী করেছে। এ কারনে বিল থেকে কেনেল দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।কেনেল দিয়ে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে কৃষক অনেকাংশই সুবিধা পাবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

তারা আরোও জানানবহুবার প্রচুর ক্ষতির মুখ দেখেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। অথচ মাত্র ৩০০ ফুট একটি খাল কাটা সম্ভব হলে বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হতে পারে।বিল থেকে দক্ষিণ পাশে করতোয়া খালের সঙ্গে একটি সংযোগ খাল খননের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এটা সম্ভব হলে বছরে তিনটি করে ফসল চাষ করা যাবে। এতে উপকৃত হবেন বিল পাড়ের কৃষকেরা।

ঘাটিনা গ্রামের সজল হোসেন,মোবিল ইসলাম, জোলাহাটি গ্রামের ফজর আলী ও আব্দুল হালিম,শাজাহানপুর গ্রামের বরাত আলী ও শহিদুল ইসলাম জানান,স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বিলপাড়ের লোকজন সলপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের কাছে বহুবার তাদের বিলের সমস্যা জানিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল খননের আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাদের আবেদন অদ্যবদি পর্যন্ত মঞ্জুর না হওয়ায় বিলপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আগের মতই রয়েগেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষি বিভাগ এই বিলের পানি নিষ্কাশনে খাল খননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ঘোচেনি কৃষকদের চলমান দুর্ভোগ। বিলে জমি থেকেও কৃষকেরা প্রতিবছর বঞ্চিত হচ্ছেন মূল্যবান ফসল থেকে। দুবলাই/ভেদুরিয়া বিলের জমির মালিক কৃষকেরা তাদের দীর্ঘ দিনের দুঃখ দুর্দশা নিরসনে অবিলম্বে এই বিলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেবার জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সলপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শওকাত ওসমান জানান,ভেদুরিয়া বিলের সমস্যা বহু দিনের। আমি স¤প্রতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েছি।পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ফিরোজ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।

দ্রুত ব্যক্তিগত ভাবে বিল পরিদর্শন করে উপজেলা সেচ বিভাগের প্রকৌশলীকে নিয়ে এখানে খাল খননের একটি প্রকল্প প্রনয়ন করবো।

এ  ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমি জানান,গেল বছর তিনি বিষয়টি জেনে এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়ে ভেদুরিয়া বিল ঘুরে দেখেছেন।

স্থানীয় কৃষকদেরকে তখন একটি লিখিত আবেদন দিতে বলেছিলেন। তারা এখনও আবেদন দেয়নি। বিলের সব জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। খাল খনন করলে কিছু জমির মূল্য দিতে হবে।

এতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। তার পরেও এলাকাবাসীর আবেদন পেলে উপজেলা পরিষদের সভায় উত্থাপন করে এই বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।