নাসিরনগরে অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সামনে সেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশ।

মোঃ আল মামুনজেলাপ্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত করে অনুমোদন ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্য্যালয়ের সামনের মাঠে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাযায়, নাসিরনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস, হিসাব রক্ষণ অফিস, কৃষি অফিস, খাদ্য অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস সহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোন ধরনের পূর্বেঅনুমোদন ছাড়াই সরকারী গুরুত্বপূর্ণ অফিস সমূহের সামনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের পক্ষ থেকে সরকারি অফিসের সামনে বিশাল আকার প্যান্ডেল এবং মঞ্চ তৈরী করাহয়। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের সামনের পুরো মাঠ দখল করাহয়। দুপুর ১২টার দিকে মঞ্চে আসেন, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মো: ফরহাদ হোসেন সংগ্রামও সম্মানিত অতিথি হিসেবে মঞ্চে প্রবেশ করেন।অফিস চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ অফিসের সামনে রাজনৈতিক দলের সমাবেশের আয়োজন করায় ভোগান্তিতে পরেন সরকারী অফিসে সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা। সরকারী অফিসের সামনে রাজনৈতিক দলের এই সমাবেশের আয়োজন করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নাসিরনগর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল গোয়ালনগর ইউনিয়নের থেকে ইপজেলা কৃষিঅফিসে আসা ফরিদ মিয়া জানান, বীজ ও সারের বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্যে কৃষি অফিসে এসেছিলাম। এসে দেখি মিটিং চলছে। অফিসে ডুকতে পারিনি মানুষের ভীরের কারণে। কি করবো এতোদূর থেকে এসে ফিরে যাচ্ছি। যে দেশের যে বাইল। পরে আবার আমু। একইভাবে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতা এ অবস্থা দেখে চলে যেতে দেখা যায়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুন বলেন, আমি এখানে সমাবেশ করার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আমার নিষেধাজ্ঞা কেউ মানেনি। এই সমাবেশ সম্পর্কে কোন ধরনের অনুমোদন নেই। সরকারী অফিসের সামনে সমাবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেকটাই অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, অফিস খোলার দিনে সরকারি অফিসের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে পূর্বে অনুমোদন ছাড়া কোন রাজনৈতিক দলের সমাবেশ করার সুযোগ নেই। তবে সেখানে কিভাবে এই রাজনৈতিক দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাল বলতে পারবেন। এ বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন বলেন, আমরা অন্য জায়গায় সমাবেশটি করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে সরকারী অফিস সমূহের সামনে সমাবেশ করেছি। এ জন্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো:বদরুদ্দোজা ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও উনি ফোন রিসিভ করেননি।