নান্দাইলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের কর্মীকে মসজিদের ভিতরে হামলা

ফরিদ মিয়া নান্দাইল ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহের নান্দাইলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বেড়েই চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নান্দাইল আসনের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন তার নিজ নামে জনপ্রিয় ফেসবুক আইডিতে একটি স্টেটাসের মাধ্যমে নান্দাইলবাসীকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ করা হয়। এর পরেও কিছুতেই থামছে না নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা।

উপজেলার ৩নং নান্দাইল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাভার গ্রামের মেম্বার প্রার্থী মোঃ লিটন মিয়া ফুটবল প্রতীক এর নির্বাচন না করায় তার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে তার প্রতিপক্ষের কর্মী সমর্থকদের উপর হামাল ঘটনা অব্যহত রেখেছে।

শুক্রবার (৭ই জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তার প্রতিপক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ খান সবুজ (তালা প্রতীক) এর কর্মী মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৫৫) এর বাড়িতে, লিটন মিয়ার গুন্ডা বাহিনী হোসেন আলীর ছেলে মোহাম্মদ (২২), মৃত আইন উদ্দিন এর ছেলে শাহাব উদ্দিন(৫৫) ও তার নাতী মাজহারুল ইসলাম(২৪) আজিত মিয়ার ছেলে লিটন(৪০) নাজিমুদ্দিন এর ছেলে লিটন(৩২) সম্মিলিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেন। এতে সিরাজুল ইসলামের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্তাক্ত করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। এরপর সবুজ মেম্বারের কর্মী হোসেন আলী (৪৫) নামের আরেক জন নিজ এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গেলে তার উপর মসজিদ আক্রমণ করে লিটন মিয়ার গুন্ডা বাহিনী। এতে হোসেন আলী আহত হয়ে নান্দাইল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

হোসেন আলী জানান, তিনি তার পছন্দের প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ খান সবুজের পক্ষে নির্বাচন করায়, এবং লিটন মিয়ার নির্বাচন না করার কারনে লিটন মিয়া তার প্রতি রাগান্বিত ছিলো। এর সূত্র ধরে তিনি শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে ক্বাবলাল জুমআর চার রাকাত সুন্নত নামাজ শেষ করতেই মসজিদের ভিতরে তার উপর আক্রমণ করা হয়। স্থানীয় নূর মোহাম্মদ এর ছেলে সেলিম মিয়া(৩২) ও আব্দুর রউফ(৪৫) অতর্কিত ভাবে হোসেন আলীকে কিল,ঘুষি মেরে তাকে আহত করে।ঘটনাস্থলে লিটন মিয়া নিজে উপস্থিত থেকেও তার কোন প্রতিবাদ করলেন না।

পরে স্থানীয়রা পৃথক ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এ সময় তারা সবুজের সমর্থক ইয়াকুব আলীর বাড়িতে আক্রমণ করে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় শহীদ মিয়া নামের আরো একজন আহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া জানান, ফুটবল প্রতীকের কাজল মিয়ার নির্দেশয় তার গুন্ডা বাহিনী আব্দুল ওয়াদুদ খান সবুজের কর্মী সমর্থকদের উপর এসব আক্রমণ করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগেও তারা সবুজ মেম্বারের কর্মীদের উপর হামলা করে আহত করছিলো।

তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ খান সবুজ বলেন, নির্বাচনের আগেও লিটন মিয়ার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে আমি সহ আমার কর্মীদের উপর আক্রমণ করে আহত করে। গত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে তারা কেন্দ্রে দখল করে জোর করে ফলাফল তার পক্ষে নিয়ে যায়। এই ফলাফলের প্রতিবাদ জানাই এবং পুনরায় ভোট গননার দাবি জানাই। এখন তারা নির্বাচন পরবর্তী সময়েও আমার কর্মীদের হত্যার ভয় দেখাচ্ছে,  বাড়িঘরে গিয়ে আক্রমণ করছেন। মসজিদে গিয়েও কোন নিরাপত্তা পাচ্ছে না আমার কর্মী সমর্থকেরা। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।