নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুক্ত দিবস পালিত

আব্দুল্লাহ আল মামুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। মুক্ত দিবস উপলক্ষে বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের ব্যানারে  জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে শেষ হয়। পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আলি, বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
আলোচনা সভা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এর আগে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগ গের আনন্দ র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে। দুপুরে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে মজিব চত্বের  এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাহিদ শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ জামান আনন্দ।

উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের বিজয়ের একদিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলা মায়ের দামাল সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল মহানন্দা নদী পার হয়ে রেহায়চর এলাকায় ১৪ ডিসেম্বর ভোরে শত্রæ বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ওই যুদ্ধে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর শত্রæবাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২টি বাংকার ধ্বংস করার পর সাহসিকতার সঙ্গে সামনে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শত্রæবাহিনীর একটি গুলি এসে লাগে তার কপালে। সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এরপর আর কোন যুদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংগঠিত হয়নি। পরের দিন অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বর শহীদ জাহাঙ্গীরকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।