নাটকীয়ভাবে মাছের ট্রাক ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা সহ আটক ৪

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী: নাটোরে মাছসহ ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় নাটোর বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের অভিযানে ৪ জনকে আটক হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, দূর্গাপুর উপজেলার সাইকেল মিস্ত্রি মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম, নাটোর নলডাঙা এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে মাসুদ (ট্রাক ডাইভার), দূর্গাপুর উপজেলার বড়দানপুর এলাকার ফারুকের ছেলে রুহান (হেলপার) ও পবা উপজেলার জাগিরপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে নুর ইসলাম।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলাদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রাকিব (৫৫) শান্ত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ট্রাক ভাড়া করেন (যাহার নম্বর ঢাকা মেট্রো ট- ২০-২৯০০)। ট্রাক মালিক শফিকুল মাছ ব্যবসায়ী রাকিবের পূর্ব পরিচিত ছিলো। ঐদিন রাতেই শফিকুলের পরিকল্পনা মাফিক নাটোর বড়াইগ্রাম থানা এলাকার পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশন থেকে ১ কিলোমিটার দূরে রাথুরিয়া নামক স্থানে মাছ ভর্তি ট্রাক ছিনতাই করেন। এ সময় হেলপার ও ড্রাইভারকে মারধর করে তাদেরকে গাছের সঙ্গে বেধে রাখেন শফিকুল ও নুর ইসলাম। ট্রাকে ছিলো মাছ ব্যবসায়ী রাকিবের এক সহযোগী। তাকে শক্ত করে বেঁধে মারধর করেন শফিকুল ও নুর ইসলাম। মাসুদকে তেমন মারধর করা হয়নি। শফিকুল ইসলামের সহযোগী নুর ইসলাম তার ম্যানেজার কাম ড্রাইভার। এই ছিনতাইকারীরা সিরাজগঞ্জে গিয়ে মাছ অন্য ট্রাকে বদলি করেন। ছিনতাই হওয়া মাছের মূল্য ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রাইভার মাসুদের সাথে কথা বললে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ মাসুদকে চাপ প্রয়োগ করলে মাসুদ ছিনতাইয়ের ঘটনা সব খুলে বলেন এবং স্বীকার করেন কিভাবে তার ট্রাক মালিক শফিকুল ছিনতাইয়ের নাটক সাজায়।

এদিকে পুলিশ ঘটনার তিনদিন অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামীদের আটক করেন। আটকের পর তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন। রোববার (১৯ ডিসেম্বর আসামীদের রিমান্ড আবেদন করেন থানা পুলিশ।

স্থানীয় জনতা ও প্রত্যক্ষদোষীরা বলেন, ট্রাক মালিক শফিকুল এভাবে দীর্ঘদিন মাছ ভর্তি ট্রাক ছিনতাই করে আসছিলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূর্গাপুর এলাকার বাসিন্দারা জানায়, শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম রাজশাহীর বড় সাংবাদিক নেতা। সেই সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে তারা এখন অনেক টাকার মালিক। তার পিতা একজন সামান্য সাইকেল মিস্ত্রি ছিলেন। এছাড়াও রাতারাতি তাদের কোটিপতি হওয়ার গল্পটাও এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ৪জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার আরও অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা বের করার জন্য আসামীদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।