নরসিংদীর শিবপুরে স্যামসাং ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স এর অপারেটর আজমল হকদের উপর্যুপরি কুপে গুরুতর আহত ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর

নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুরে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স এ কর্মরত সাব অপারেটর সন্ত্রাসী আজমল হক গং দের কাজের গুণগতমানের ত্রুটি তুলে ধরেন ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম। সেই কারণে ক্ষিপ্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম কে নির্মমভাবে কুপিয়ে তার ডান কানের আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে অপারেটর আজমল হক গং।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার পুটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন অবস্থিত দেশ-বিদেশ খ্যাতনামা স্যামসাং ফেয়ার এলেক্ট্রনিকস। সেখানে ম্যানুফ্যাকচারিং স্পেশালিস্ট -২, হিসেবে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম। তার বাড়ি শিবপুর থানার খড়িয়া গ্রামে পিতার নামঃ জসীমউদ্দীন । ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৯ নভেম্বর তার কর্মস্থল কামারগাঁও পুঠিয়া থেকে অফিসের ডিউটি শেষ করে রাত্রে অনুমান ৮.৩০ ঘটিকায় বাড়িতে যাওয়ার পথে বাজনাব নামক স্থানে হেলিম মাস্টারের বাড়ির পুকুরের সামনে পৌঁছামাত্র দুটি মোটর সাইকেল যোগে আসা পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা একই প্রতিষ্ঠানের সাবলাইন অপারেটর পদে কর্মরত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আসামি ১| মোঃ আজমল হক পিতা নুর আলমগীর বাবুল গ্রাম বৈলাব ,২| সাব্বির খান পিতাঃ মোঃ রতন খান, গ্রাম দরগারবন্দ লালপুর ,৩| জসিম উদ্দিন পিতা আব্দুল বাতেন, গ্রাম কামারটেক চৈত্যনা,৪| রুবেল মিয়া পিতা হারুন মিয়া, গ্রাম দক্ষিণ সাধারচর, থানা শিবপুর জেলা নরসিংদী গন ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীরের চলার পথ রোধ করে সন্ত্রাসী আসামী আজমল হক ও সাব্বিরের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়া ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি নির্মমভাবে কুপিয়ে তার ডান কান বিচ্ছিন্ন করে, ও ডান কাঁধে, গর্দানে এবং পিঠে , কোমরে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে আসামিরা পালিয়ে যায়। তখন ভিকটিম জাহাঙ্গীর আলমের গোঙ্গানির শব্দ শুনে আশেপাশের পথচারী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকাতে নেওয়ার পর ডাক্তার জখমী ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলমের কাঁটা ক্ষত স্থানে ৪৪ টি সেলাই করেন। আসামিদের গুরুতর কুপের আঘাতে ভিকটিমের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ডাক্তার জখমী ভিকটিমের শরীরের ৪ ব্যাগ রক্ত পুঁজ করেন। অভিযোগকারী জখমী ভিকটিম জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শে নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখে এ ঘটনার বিষয়ে লিখিত এজাহার দেওয়ার পরও অদ্যবধি সংশ্লিষ্ট শিবপুর থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছেন না মর্মে অভিযোগ করেছেন দৈনিক আমার সময়ের সাংবাদিকের নিকট। অভিযোগকারী জখমী ভিকটিম তার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২২ নভেম্বর ও ২৮ নভেম্বর আসামিরা অফিসে অপারেটর পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ও অভিযোগকারী জখমী ভিকটিম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় তখন আসামিদের কাজের গুণগত মানের ত্রুটি তুলে ধরার কারণে কথা কাটাকাটি হয় ও ইঞ্জিনিয়ারকে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করেন আসামিরা। সেই সূত্র ধরেই আসামিরা অভিযোগকারীর প্রতি ক্ষিপ্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে উপর্যুপরি কুপিয়ে তার ডান কান আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করেন। বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর চিকিৎসাধীন রয়েছেন।