নরসিংদীতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব  খোকন সহ প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নরসিংদী থেকে মোঃ মনসুর আলী শিকদার: নরসিংদীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সভাপতি খায়রুল কবির খোকন সহ প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নরসিংদী মডেল থানায় বিএনপির ৭২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও প্রায় ১৫০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়। নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল আলীম বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন কে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সদর উপজেলার চিনিশপুরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সমাবেশে অংশ নিতে আসা তিন শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী বিকেল ৫ টা থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর এক এক করে বেরিয়ে যান। ওই সময় খায়রুল কবির তার গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে নরসিংদী ছাড়েন।
জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। বেলা ৩টার দিকে চিনিশপুরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেতরে প্যান্ডেল করে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়। পাঁচ শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মী এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। বিকেল ৫টার দিকে জেলা পুলিশের একদল সদস্য সেখানে হাজির হয়ে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে গ্রেপ্তারের ভয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপরই বাইরে থেকে পুলিশ কার্যালয়টি ঘিরে রেখেছে। কেউ বের হতে গেলেই তাঁকে আটক করা হয়। ওই সময় কার্যালয়টির দুই পাশের সড়কে খণ্ড খণ্ড দলে ভাগ হয়ে শতাধিক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন।
অবরুদ্ধ হয়ে থাকা নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, সহসভাপতি দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম সম্পাদক আকবর হোসেন, শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দিন ভূঁইয়া, শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল হক জাবেদ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আমিনুল হক, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাররম ভূঁইয়া, হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
অন্যদিকে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ বলছেন, সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা নরসিংদী সদরের চিনিশপুর এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দলীয় অনুষ্ঠান করছিল। পুলিশ তাদেরকে রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ইটের আঘাতে আবু সাইদ ও সবুজ মিয়া নামে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু ইটের টুকরো, লাঠি ও বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক আবআদুল আলীম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির বলেন, একটি স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ এই অধিকারটুকুও তারা আমাদের দিতে চান না। দলীয় কার্যালয়েরই ভেতরেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালীন বিনা কারণে ও বিনা উসকানিতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় যারাই বের হতে চেয়েছেন। তাদেরই আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) আবার আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাও দিয়েছে। এভাবে একের পর এক আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তারা আমাদের থামিয়ে দিতে চান।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সওগাতুল আলম জানান, পুলিশি কাজে বাধা সৃষ্টি, ইটপাটকেল ছুড়ে পুলিশকে আক্রমণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আটক ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।