নরসিংদীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন আহত

নরসিংদী থেকে মোঃ মনসুর আলী শিকদার: নরসিংদীতে ইনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কমপক্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্র দখলের কারণে কালাই গোবিন্দপুর কেন্দ্রে ৩০ মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল।
রোববার (২৮ নভেম্বর) জেলার চরাঞ্চল করিমপুর, নজরপুরের দিলারপুর, কালাই গোবিন্দপুর, শীলমান্দি ও আমদিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
জেলায় সকাল ৮টা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দুপুর ১২টায় নজরপুর ইউনিয়নের দিলাপুর কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
অন্যদিকে দুপুর ১টার দিকে করিমপুর ১নং কেন্দ্রে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় নৌকার সমর্থকরা বাধা দিতে গেলে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে কমপক্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
অন্যদিকে দুর্গম চরাঞ্চল কালাই গোবিন্দপুরে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে কেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এছাড়া আমদিয়া,শীলমান্দি ও চিনিশপুরে কেন্দ্রের বাহিরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এদিকে জালভোট, কেন্দ্র দখল ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া রিপন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।