ধামরাইয়ে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠায় ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি

মোঃ আব্দুল আহাদ বাবু, ধামরাই ঢাকা প্রতিনিধিঃ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে উন্নয়নের নামে দেশের এক ইঞ্চি কৃষি জমিও নষ্ট করা যাবে না। কিন্তু কে মানছে এসব কথা?  ঢাকার অদূরেই ধামরাই উপজেলা। যেখানে কোন নিয়মনীতি না মেনেই অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক কৃষি জমি ভরাট করে গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা ও ইটভাটা। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার হাজারো কৃষক। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি।

যে কৃষি জমিতে ইটভাটা বা শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে সেই জমিই শুধু নষ্ট হচ্ছে না, নষ্ট হচ্ছে তার আশপাশের কৃষকের জমিও। কারণ এক স্থানে কোন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হলে সেখানে মাটি বা বালু ফেলে জমি উঁচু করে শিল্পকারখানা তৈরি করেন কারখানা  মালিকরা। আর সেই জমি ভরাটের কারণেই বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। আবার ইটভাটার ইট তৈরির কাচামালের যোগান দিতে কৃষি জমি পরিণত হচ্ছে পুকুরে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সারা বছরই এসব জমি পানির নিচেই  পরে থাকছে। যার কারণে কৃষকরা তাদের সোনার ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এমনই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ডাউটিয়া জয়পুরা এবং গাওয়াইল গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় শতশত হেক্টর কৃষি জমি পুকুর হইয়ে পরে আছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হইয়ে গেলেও এখানে তাকালে তা মনে হয় না। এখানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশেই কৃষি জমিতে তৈরি হয়েছে সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এম. এ. এইচ স্পিনিং মিলস লিঃ সহ কয়েকটি কারখানা। যার কারণে মহাসড়কের উত্তর পাশের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা  বন্ধ হইয়ে দীর্ঘদিন যাবত । আর এতে সারা বছরই পানির মধ্যে ডুবে থাকছে মহাসড়কের উত্তর পাশের কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমি।

পানি নিষ্কাশনের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় এই তিনটি গ্রামের প্রায় সহস্রাধীক কৃষক তাদের জমিতে ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । এক সময় এসব জমিতে ধান পাট সরিষা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের ফসল চাষ করতেন বলে জানান ডাউটিয়া গ্রামের প্রায় ৭০ বছরের কৃষক মিনহাজ উদ্দিন। তিনি আরো বলেন, এই কারখানা গুলো হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কের উত্তর পাশের পানি আটকে থাকে। যার কারণে আমরা আমাদের জমিতে কোন চাষবাসই করতে পারি না।

সোমভাগ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, উত্তর পাশের পানি মহাসড়কের সেতুর নিচ দিয়ে দক্ষিণ পাশ দিয়ে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিলো। পরে সেখান থেকে নদীতে চলে যেতো সব পানি। কিন্তু দক্ষিণ পাশে কয়েকটি কারখানা হওয়াতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হইয়ে যায়। কারখানা মালিকরা পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট চঙ্গি (পাইপ) দিয়ে দিছিলো কিন্তু তা পর্যাপ্ত না। আর বর্তমানে সে সব চঙ্গি (পাইপ) ও মাটি দিয়ে ভরাট হইয়ে গেছে। যার কারণে পানি নিষ্কাশন একেবারেই বন্ধ হইয়ে আছে।

তিনি আরো বলেন, মহাসড়কের উত্তর পাশের পানি নিষ্কাশনের একটাই স্থায়ী ব্যবস্থা আছে তা হলো, সেতুর নিচ দিয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে গাওয়াইল এলাকার চক (কৃষি জমি) দিয়ে কাইটামারা নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।

এবিষয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রভাষক মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এই পানি নিষ্কাসনের স্থায়ী একটা ব্যবস্থা করা। তাদের সাথে এটা আমারও দাবি। কারণ কৃষক ভাইয়েরা বাঁচলেই আমরা বাঁচবো। এই শতশত হেক্টর কৃষি জমি যদি জলাবদ্ধতা থেকে  নিরসনের ব্যবস্থা করা যায় তা হলে এখান থেকেই  হাজারো টন সরিষা ও ধানসহ অন্যাঅন্য ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই কৃষক ভাইদের মুখে হাঁসি ফোটাতে যা করতে হয় আমি আমার অবস্থান থেকে তা করবো।

ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনা সেখানকার কৃষকরা কখনো জানায়নি। তারা যদি তাদের সমস্যার কথা বলে তাহলে পানি নিষ্কাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।