দোহার ও নবাবগঞ্জে ১৯ টি ইউনিয়নেই নৌকা বিজয়ী

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগঞ্জ(ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোহারে অনুষ্ঠিত ৫টি ইউনিয়নের সব কয়টিতেই নৌকা বিজয়ী হয়েছে।

গত সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

তবে বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং এবং প্রিজাইডিং অফিসারগন জানিয়েছেন, যাদের বয়স একটু বেশী হয়ে গিয়েছে, তাদের হাতের ফিংগার মিলতে সময় নেয়। আর যাদের হয়না আমরা তাদেরকে হেক্সিসল দিয়ে হাতের আঙ্গুল পরিষ্কার করে তারপর ভোট দেওয়া ব্যবস্থা করেছে।

তবে, কয়েকটি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন বলে জানা গেছে। মুকসুদপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডায়মন্ড শিকদার এবং এম এ রহিম সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন। বিলাশপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন ভোট বর্জন করেছেন। বিলাশপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, কেন্দ্র ঘুরলেই দেখবেন, কি অবস্থা। আমার আর বলতে হবে না। সবখানে আমার এজেন্ট বের করে দিয়েছে। নয়াবাড়িতে শামীম হান্নান ভোট বর্জন করে জানিয়েছেন আমার সব এজেন্ট বুথ থেকে বের করে দিয়েছে সে জন্য আমি দুপুর ১ টার পর ভোট বর্জন করেছি।

ইভিএম এর বিষয় দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার বলেন, জনগণ সুষ্ঠু ভাবে ভোট প্রদান করেছে। আমরা দেখেছি পুরুষদের থেকে মহিলারা বেশী ভোট প্রদান করতে এসেছে। ইভিএমে যে সিরিয়াল নিয়ে এসে ভোট দিতে হয় সেটি আমাদের আগে জানানো হয়নি। সে কারনে আমাদের ভোট কাস্ট কম হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, সবাই সুন্দর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু হচ্ছে। আশা করি, জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিয়ে এবং সাংসদ সালমান এফ রহমানের উন্নয়ন কাজে শরিক হতে, সবাই নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।

নয়াবাড়ি ইউনিয়নে প্রথম বার ইভিএমে ভোট দিতে আসা আনোয়ারা বেগম বলেন,আমার ভালই লাগলো হাতের ছাপ দিয়ে ভোট দিতে পেরে। আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভাল লাগছে।

নারিশা ইউনিয়নের মাসুদ রানা বলেন, প্রথমবার ইভিএম এ ভোট দিলাম। খুব ভালো লেগেছে। আশা করছি যাকে ভোট দিয়েছি, তিনিই বিজয়ী হবেন।

পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে নয়াবাড়ি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৩৯৭৫ জন। নয়াবাড়ি ইউনিয়নের নৌকা প্রতিক নিয়ে তৈয়বুর রহমান তরুণ ৫৩৪৪ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহাম্মেদ হান্নান আনারস মার্কা নিয়ে ১৮৩৮ ভোট পেয়েছে। বেশি ভোট পাওয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে তৈয়বুর রহমান তরুণ বিজয়ী হয়েছেন।

কুসুমহাটি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১৯৬৪৬ জন ভোটার। নৌকা প্রতিক নিয়ে কাদের মণ্ডল ৫২২৫ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমজাদ হোসেন আজাদ আনারস মার্কা নিয়ে ৩৭৩২ ভোট পেয়েছে । বেশি ভোট পাওয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে আবদুল কাদের মণ্ডল বিজয়ী হয়েছেন।

বিলাশপুর ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১১৫৩৬

নৌকা প্রতিক নিয়ে রাশেদ চোকদার ৫৩৩৩ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দিন মোল্লা আনারস মার্কা নিয়ে ৭৬৫ ভোট পেয়েছে ও মোঃ আবুল হোসেন মোটরসাইকেল প্রতিক ২৪৪ ভোট পেয়েছে। বেশি ভোট পাওয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে রাশেদ চোকদার বিজয়ী হয়েছেন।

নারিশা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২০৩৬ জন।নৌকা প্রতিক নিয়ে আলমগীর হোসেন ১০৭৮৪ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ঘটু খালাসি আনারস মার্কা নিয়ে ৩০৮৬ ভোট পেয়েছে ও সালাউদ্দীন দারানী মোটরসাইকেল প্রতিক ৩১১০ ভোট পেয়েছে। বেশি ভোট পাওয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে আলমগীর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।

বিজয়ী হতে পেরে স্রষ্টার কাছে কৃতী প্রকাশ করেন আলমগীর হোসেন। একইসাথে, তিনি জনগনকে ধন্যবাদ জানান তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায়। তিনি সাংসদ সালমান এফ রহমান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান নৌকা প্রতীকে তার উপর আস্থা রাখা জন্য। একইসাথে, সবাইকে সাথে নিয়ে একটি পরিকল্পিত, উন্নত, শিক্ষিত, আধুনিক নারিশা ইউনিয়ন গড়বেন বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

মুকসুদপুর ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২২৫৬২ জন। নৌকা প্রতিক নিয়ে অধ্যাপক এমএ হান্নান ৯৪১৯ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা মার্কা নিয়ে মোঃ হালিম বেপারী ৬৭১ ভোট পেয়েছে। এমএ রহিম আনারস মার্কা নিয়ে ১৯৫ ভোট পেয়েছে ও ডায়মন্ড শিকদার টেলিফোন প্রতিক ১২৫১ ভোট পেয়েছে। বেশি ভোট পাওয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে অধ্যাপক এমএ হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে অধ্যাপক আব্দুল হান্নান পরপর ২বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।

অপর দিকে ঢাকার নবাবগন্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নে আলীমোর রহমান খান পিয়ারা, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে রেশমা আক্তার, বারুয়াখালী ইউনিয়নে এমএ বারী বাবুল, নয়নশ্রী ইউনিয়নে মোঃ পলাশ চৌধুরী, শোল্লা ইউনিয়নে মোঃ মিজানুর রহমান ভূইয়া, যন্ত্রাইল ইউনিয়নে একেএম. মনিরুজ্জামান, বান্দুরা ইউনিয়নে মোঃ হুমায়ুন কবির, কলাকোপা ইউনিয়নে মোঃ ইব্রাহীম খলিল, বক্সনগর ইউনিয়নে মোঃ আঃ ওয়াদুদ, বাহ্রা ইউনিয়নে মোঃ সাফিল উদ্দিন আহমেদ, কৈলাইল ইউনিয়নে বশির আহমেদ, আগলা ইউনিয়নে শিরিন চৌধুরী, গালিমপুর ইউনিয়নে মোঃ আজিজুর রহমান ভূইয়া ও চূড়াইন ইউনিয়নে মোঃ আব্দুল জলিল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে।