দেশের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি অবদান কবি-আবৃত্তিকারদের: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: এদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামেই কবি ও আবৃত্তিকারদের সবচেয়ে বেশি অবদান বলে মন্তব‌্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “একটি কবিতার শক্তি যে কত বেশি, সেটা তো নিজেরাই জানি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যখন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যাচ্ছে না, তখন কবিতার মধ্য দিয়েই তো প্রতিবাদের ভাষা বেরিয়ে আসে এবং মানুষ সেখানে উদ্বুদ্ধ হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি অবদান রয়েছে কবিদের ও আবৃত্তিকারকদের।”

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি সব সময় ঐতিহাসিকভাবে জড়িত। কিন্তু পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রটি যখন গঠন হলো তখন সেটা হারিয়ে যেতে বসল। তখনই ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এর প্রতিবাদ শুরু করেন। তিনি ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন। রবীন্দ্র সংগীত, সাহিত্য বাতিল করা হলো। বাংলা ভাষাকে বাংলা অক্ষরে লেখা হতো না। কখনো আরবি শব্দে, কখনো ল্যাটিন শব্দে লেখা। এরকম আঘাত বার বার এসেছে। বাঙালি তাতে থেমে থাকেনি; প্রতিবাদ করেছে।’

গল্পের ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন আব্দুল হাই সাহেব। তখন আয়ুব খানের যুগে মোনায়েম খান ছিলেন এদেশের গভর্নর। মোনায়েম খান আব্দুল হাই সাহেবকে ডাকলেন তিনি নির্দেশ দিলেন আপনারা এতো রবীন্দ্র সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত করেন কেন? দুই-চার খান রবীন্দ্র সংগীত আপনারা লিখে ফেলতে পারেন না? একটু ভেবে দেখেন কারা এ দেশ শাসন করেছে? এ কথা যখন হাই সাহেবকে বললেন তিনি (আব্দুল হাই) বিনয়ী ছিলেন। তিনি শুধু এটুক বলেছিলেন স্যার আমি তো লিখতে পারি। তবে সেটা তো রবীন্দ্র সংগীত হবে না, ওটা হয়ে যাবে হাই সংগীত। ভেবে দেখুন আমাদের উপর আঘাত কত বার এসেছে? কিন্তু বাঙালি বসে থাকেনি। প্রতিবারই প্রতিবাদ করেছে।’

তিনি বলেন, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক আবৃত্তিকার যা কিছু দিয়ে গেছেন তার তুলনা হয় না। নীল দর্পণ নাটকের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল। অনেকে যেটা ভালো তা লিখেছেন, নাটক করেছেন, সাহিত্য লিখেছেন, বই ছাপিয়েছেন, রচনা করেছেন প্রতিবাদ করেছেন। যার জন্য কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছে, কিন্তু থেমে থাকেননি কেউ। আমরা যখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করলাম তখনো পথনাটক-কবিতা-আবৃত্তির মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে। সেখানে অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছে। তখন যে কবিতা উৎসব হতো অনেক বাধার মধ্য দিয়েই করতে হতো। কবিতার মধ্য দিয়ে অনেক না বলা কথা বলা হয়। অনেক সংগ্রামের পথ দেখানো হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ বক্তৃতা করে বেড়াই। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আমি যেকথা বলি সেটার চেয়ে একটা কবিতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে অনেক বেশি। মানুষ উদ্বুদ্ধ হয় কবিতা, গান, নাটকের মধ্য দিয়ে বা সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছানো যায়। আগে কবিদের লড়াই হতো। আসলে বাঙালিরা সজতভাবেই কবি। এটা হলো বাস্তবতা।