দর্শকদের হাসিমুখে বাড়ি ফেরাতে চান সাবিনারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চোখকে বিশ্বাস করানোর মতো নয়। বাংলাদেশের মেয়েদের অবিশ্বাস্য পাসিং ফুটবলের পসরা। এমনটি বাংলাদেশে তো নয়ই, এশিয়াও সচরাচর দেখা যায় না। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েরা ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচের প্রথমটিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই রকমই দৃষ্টিনন্দন অবিশ্বাস্য পাসিং ফুটবলে খেলে ম্যাচ জিতেছিল ৬-০ গোলে।

বাংলাদেশের মেয়েরা কি পরিমাণ পাসিং ফুটবল খেলেছে, তা বুঝা যায় দলের অধিনায়ক সাবিনার কণ্ঠেই, ‘আমরা অনেক সময় ১৫ পাস খেলেছি। যেটা দেখে অনেকে অবাক হয়েছেন নারীরা এত পাস খেলে গোল করছে। শুধু জয় নয়, সুন্দর খেলাটাও একটা বিষয়।’প্রথম ম্যাচে সাবিনারা দুইটিরই সমন্বয় ঘটিয়ে গেঁথেছিলেন এক সুতোয়। তাদের এ রকম বিনিসুতার মালায় এক হয়ে যাওয়াতে র‌্যাংকিংয়ে ৬১ ধাপএগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া বানের পানির মতো ভেসে গেছে। অথচ খেলতে নামার আগে জয়ের কথা ভাবেননি খেলোয়াড় কিংবা কোচ। কিন্তু আজ দ্বিতীয় ম্যাচে তারা জয়ের কথা ঠিকই ভাবছেন। জয় মানেই দুই ম্যাচর সিরিজ বাংলাদেশের। ড্র করলেও সিরিজ বাংলাদেশের। কিন্তু প্রথম ম্যাচে চোখ ধাঁধানো খেলা উপহার দেওয়া সাবিনা-আঁখি-স্বপ্না-কৃষ্ণা-মনিকারা জয়ের স্বপ্নেই বিভোর। কমলাপুর বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। টি-স্পোর্টস সরাসরি খেলা সম্প্রচার করবে।

যে দল আগের ম্যাচে অর্ধডজন গোলে জয় পায়, পরের ম্যাচে তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। ভুল ভ্রান্তিও খুব একটা চোখে পড়ে না। ছয় গোলের বিপরীতে কোনো গোলও হজম করেননি। একেবারে শতভাগ খাঁটি ম্যাচ বলতে যা বুঝায়, তাই ছিল প্রথম ম্যাচ।

তাইতো কোচ গোলাম রব্বানি ছোটনের কণ্ঠ দিয়ে বের হয়ে এসেছে, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা একটা ম্যাচ খেলে ফেলেছি। মেয়েরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলেছে এবং আমরা ভালোভাবেই জয় লাভ করেছি। এখন আমাদের সামনে আরেকটা ম্যাচ আছে, ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচের যে পারফরম্যান্স হয়েছে এ ম্যাচেও সেটা করার পরিকল্পনা থাকবে।’

প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়াতে আজকের ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি নান্দনিক খেলা উপহার দিয়ে দর্শকদের বিমোহিতও করতে চান কোচ। তিনি বলেন, ‘এ ম্যাচেও আমরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করব, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলব। আগেও বলেছি, আমরা ভালো খেলব। দর্শকদের আনন্দ দেব, সঙ্গে জয় নিয়ে ফিরব।’

অধিনায়ক সাবিনা প্রথম ম্যাচে ছয় গোলের একটি করেছিলেন। কয়েকটিতে ছিলেন যোগানদাতা। চাইলে দলের চতুর্থ গোল তিনি স্বপ্নাকে দিয়ে না করিয়ে নিজেও করতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজে সুবিধাজনক অবস্থান থাকলেও আরও বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা স্বপ্নাকে দিয়েই তিনি গোলটি করিয়েছিলেন। তিনি নিজে যেমন গোল করে আনন্দপান, তেমনি গোল করিয়েও।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের এত বড় একটা সাফল্য। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটা পাওয়া। আমার এখন গোল করার চেয়ে গোল করাতেও অনেক ভালো লাগে। গত ম্যাচে আমাদের বিশেষ করে সেটপিসগুলো আমি নিয়েছি, পরিকল্পনাও ছিল এরকম। যখন আমার ছোটরা গোল করে, সেটা দেখতে আমার ভালো লাগে। গোল করা অবশ্যই বেশি আনন্দের, তবে গোল করাতেও আনন্দ লাগে।’

আজকের ম্যাচ নিয়ে সাবিনা বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের টার্গেট থাকবে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালো খেলা উপহার দেওয়া। দর্শক যখন মাঠে আসে, ভালো খেলা দেখার আশা নিয়েই আসে। আমাদের চেষ্টা করব, তারা যেন খুশি হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।’