তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসের লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মদিন উদযাপন

মোঃ আল মামুন, জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: রাহ্মণবাড়িয়ায় সাহিত্য একাডেমি আয়োজিত কালজয়ী উপন্যাস “তিতাসএকটি নদীর নাম” উপন্যাসের লেখক ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের ১০৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে দিনব্যাপী জমজমাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত পহেলা জানুয়ারি শহরের গোকর্ণঘাট এলাকায় শুরুতে সকাল বেলায় অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মভিটা মালোপাড়ায় শিশুদের মাঝে সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি ও দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিল। বিকাল ৩টায় অদ্বৈত মল্লবর্মণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গোকর্ণঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ফেরদৌস মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক একেএম শিবলী, মূখ্য আলোচক ছিলেন সাহিত্য একাডেমির সিনিয়র সহসভাপতি অদ্বৈত গবেষক মানিক রতন শর্মা, অধ্যাপক মহিবুর রহিম, গোকর্ণঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু পরিমল ভৌমিক, অদ্বৈত গবেষক আমির হোসেন, সাহিত্য একাডেমির সম্পাদনা মণ্ডলীর সদস্য জামিনুর রহমান, নতুন মাত্রার সভাপতি আল আমীন শাহীন, খালেদা মুন্নী, হেলাল উদ্দিন হৃদয়, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অদ্বৈত বংশধর নির্মল মল্ল বর্মণ, বিশু চন্দ্র বর্মণ ও স্বপন চন্দ্র বর্মণ প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচলনা করেন সাহিত্য একাডেমির সদস্য সোহেল আহাদ। আলোচনা শেষে সাহিত্য একাডেমির আবৃত্তি শিল্পীরা সোহেল আহাদের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় “স্বাধীনতার মিছিল” বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সবশেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অদ্বৈত মল্লবর্মণের বংশধর নির্মল মল্লবর্মণ বলেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মভিটায় একটি পাঠাগার নির্মাণ কর প্রয়োজন। এমন দাবির প্রেক্ষিতে প্রধান অতিথি মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, পাঠাগার নির্মাণে যা যা প্রয়োজন আমি সব ব্যবস্থা করবো। অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক একে এম শিবলী বলেন, ১৯৯০ সন থেকে সাহিত্য একাডেমি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম কোন সংগঠন সাংগঠনিকভাবে তা স্মরণ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মদিন পালন করে আসছে সংগঠনটি। তিনি আরো বলেন, ২০০৪ সন থেকে সাহিত্য একাডেমি গোকর্ণঘাট মালোপাড়ায় দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করে আসলেও সে জায়গাটি নানানভাবে স্থানীয়রা দখল করে নেয়ার ফলে সেখানে আর উৎসব করা হয়ে উঠেনি। তবে আগামী বছর থেকে সাহিত্য একাডেমি ৩দিনব্যাপী অদ্বৈত মল্লবর্মণ উৎসব পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।