টেকনাফে মারোতের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও অগ্রযাত্রায় সফলতা

এস,এন,কায়সার জুয়েল/ টেকনাফ প্রতিনিধি: মানসিক রোগিদের তহবিল (মারোত) দীর্ঘ পাঁচ বছরের পদযাত্রায় অগ্রগতি, অগ্রসরতা,সাফল্য বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অসহায় অবহেলিত মানসিক রোগিদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করা টেকনাফে একমাত্র সংগঠন মারোত। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর, যাদের নিয়ে কেউ ভাবেনা, কেউ এগিয়ে আসেনা, তাদের জন্য মারোতের একঝাঁক মানবিক মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ভালোবাসার ছোঁয়া দিতে যারা শ্রম ঘাম, মেধা, মনন ও চিন্তা চেতনায় মারোতকে সমৃদ্ধ করেছে, অগ্রগামী করেছে।

যাদের অবদানে,সহযোগিতায়, সহমর্মিতায় মারোতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।কোভিড – ১৯ এর মতো অতিমারির কবলে পড়ে লকডাউনের মতো কঠিন সময়টুকুতে মারোতের পদচারণা না থাকলে টেকনাফের ১২০ জন মানসিক রোগির জীবন কতো যে দুর্বিষহ হতো তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।তাদের জন্য আলাদা প্রকল্প নিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণের মাধ্যমে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে মারোত।

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যবধি মানসিক রোগিদের জন্য রান্না করা খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত পোশাক, শীত বস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সেবা, চুল দাড়ি কেটে দেয়া,মৃত মানসিক রোগির দাফন কার্যক্রমের মাধ্যমে মারোত আজ মানবতার অনন্য প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। সব মানবিক মানুষকে একই পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ করতে মারোত বদ্ধপরিকর।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মারোত আজ বিশ্বের বিভিন্ন

দেশের মানবতাবাদীদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। টেকনাফ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন মানসিক রোগিকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার মাধ্যমে মারোত যে সফলতা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মারোতের সঠিক নির্দেশনায় রাস্তায়,পথে ঘাটে পড়ে থাকা পাগল মানুষগুলো খুঁজে পেয়েছে পরিজনদের। সুস্থ সবল দেহে ফিরেছে আপন আলয়ে।

মানবিক স্থানীয় সংসদ সদস্য, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা, উদারতা, একাগ্রতা মারোতকে বারবার অনুপ্রাণিত করেছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে পাগলদের জন্য কোভিড ১৯ এর ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা।এতে সহৃদয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা প্রসশাসন ও টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।বিশেষ করে ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল ও ডাঃ প্রণয় রুদ্রের মানবতাবোধের কারণে অবহেলিত, জাতীয় সনদ পত্র বিহীন মানসিক রোগিরা আজ করোনার টীকা নিয়ে আশঙ্কা মুক্ত হয়েছে।

মারোত আজ মানবতার অনন্য ঠিকানা। মারোত আজ ক্ষুধার্ত মানুষের আশ্রয়স্থল।মারোত আজ ভবঘুরে অসহায় চালহীন চুলোহীন মানুষের একমাত্র বন্ধু।

যারা এই পাঁচ বছরের মারোতের সাথে একযোগে কাজ করে মারোতকে খ্যাতির চুড়ায় আরোহনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন তাদের অন্যতম আমার প্রিয় সাংবাদিকেরা। তাদের শাণিত কলম মারোতকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে।

সবশেষে বলবো মানবতার সেবক হিসেবে আসুন হাত বাড়াই ক্ষুধা তাড়াই।