জেলা পরিষদের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস ও সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব উদযাপন 

মোঃ আল মামুন, জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জননেতা আলহাজ্ব শফিকুল আলম এম.এসসি বলেছেন, বাংলাদেশের বিজয় মানে নিরন্তর এগিয়ে চলা। আর এমন এগিয়ে চলার শুরু হাজার বছরনয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিজের কথা না ভেবে, সংসার-সন্তানের কথা না ভেবে বাঙ্গালী  জাতি ও বাংলাদেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে তৈরি ছিলেন সর্বদাই। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে, সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বীর বাঙ্গালী  বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ইতিহাসের সোনালী পাতায় লেখা- বাঙালি জাতির সর্বকালে শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। তিনি  আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে এক দিনেই আমরা বিজয় অর্জন করিনি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াই। যে লড়াইয়ে লাখো প্রাণ আর মা-বোনদের সর্বোচ্চ ত্যাগের   বিনিময়ে ১৯৭১ সালের আজকের দিনে অর্জিত হয় আমাদের বিজয়।  আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি সেইসব বীর সেনানী ও নর-নারীর সর্বোচচ ত্যাগীদের। বিজয়ের ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তীর আলোয় আলোকিত বাংলাদেশকে গড়তে হলে সবাইকে মনে রাখতে হবে। সেই সাথে সবার মনে এখন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।
জেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্যাপন পুষ্পস্তপক  অর্পন, আলোচনা সভা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির  বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, বিশ্বনেত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মানসকন্যা  জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের সড়কে দেশ এখন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে তাঁর নির্দেশক্রমে আমরা একযোগে কাজ করে যাবো ইনশাল্লাহ।  সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া    পৌরসভার দুইবারের সাবেক সফল মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আজাদ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মিনারা আলম, এডঃ কাউছার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের উপ-পরিচালক মোঃ পলাশ প্রমুখ।
অন্যন্যাদের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন হিসাব  উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল বাক্কী, রক্ষন কর্মকর্তা কাজী ছানাউল হক, প্রধান সহকারী নুরুর রহমান, উচ্চমান সহকারী হাজী আমির হোসেন, সার্ভেয়ার বদিউল আলম আইটি ইনচার্জ সুমন প্রমুখ।
বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক  উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম ও গীতা পাঠ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতীশ চন্দ্র রায়।