জানুয়ারী মাসে রাজশাহীতে ২২ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী: উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) অত্র জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নারী ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে লফস সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেল থেকে রাজশাহীর প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি প্রকাশ করে। লফস মনে করে অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে। যৌতুক ও পরকীয়ার কারনে অধিকাংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়াল পরকিয়াকে উৎসাহিত করছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। বিষয়গুলো কারও জন্য সুখকর নয়। জানুয়ারী’২২ মাসের নারী ও শিশু পরিস্থিতির কিছু অমানবিক ঘটে যাওয়া ঘটনার চিত্র তথ্য তুলে ধরা হলো-

নারী হত্যা ১ জন ও শিশু হত্যা করা হয়েছে ১ জন, হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে ২ নারীকে, আত্বহত্যা করেন নারি ৩ জন ও শিশু ৫ জন, ধর্ষনের শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু, ধর্ষন চেষ্টা করা হয় ১ জন শিশুকে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয় নারী ও শিশু সহ ২ জন, নির্যাতনের শিকার হয় ১ শিশু ও নারী ৪ জন। গত এক মাসে নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে সর্বমোট ২৪৩ জন নির্যাতনের শিকার। এর মধ্যে পুঠিয়া উপজেলার শিলমারিয়া ইউনিয়নের খোকসা গ্রামে জেসমিন আক্তার বাবলীর বদনাম ছড়ানোর বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধর ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগের ঘঁনাটি সকলের জন্য উদ্বেগজনক।

লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না। এমন বাস্তবতায় রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক। রাজশাহী অঞ্চলে নারী – শিশু নির্যাতন সহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দিষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। লফস সকল নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবী জানান।