জাতির পিতার স্বপ্নকে সফল করার প্রত্যয়েই এগিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা—পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে,কিন্তু ঘাটতের বুলেট সেই স্বপ্ন পুরণ করতে দেয়নি তবে তিনি দেশকে একটি মজবুত ভিতের ওপর দাড় করে দিয়েছিলেন। আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন।  মানুষের জন্যই প্রতিদিনের প্রতিটি ক্ষণকে কাজে লাগানোর পণ তার। জাতির পিতার স্বপ্নকে সফল করার প্রত্যয়েই এগিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল, মর্যাদাশীল দেশ বাংলাদেশ। তিনি আজ বিশ্ব রাষ্ট্র নায়কদের কাছে বিশেষ সম্মানের ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত। তার নের্তৃতেই আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পৌছাবো এবং ২০৪১ সালের মধ্যে পৃথিবীর অন্যান্য বড় বড় দেশের মতো সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে আমরা পৌছাতে সক্ষম হবে।

আজ বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিল্লুবাড়ি বেকারির পোল সংলগ্ন বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত এলজিডি এর আওতায় বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ছোট দেশ অধিক জনসংখ্যা । এই জনসংখ্যাকে কিভাবে ভালো রাখছেন এটাই বিশ্ব নের্তৃবৃন্দের কাছে বিশ্বয়। তিনি দিন রাত কাজ করেন দুটি কারনে প্রথমত দুখি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে আর দ্বিতীয়ত তার বাবার শিক্ষা বাঙ্গালী জাতিকে মাথা উচু করে বাচতে শেখা। তিনি আছেন বলে দেশের এতো উন্নয়ন হচ্ছে,তিনি না থাকলে এই উন্নয়ন থমকে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী  জাহিদ ফারুক।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন; বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে বিএনপি’র শাসনামলে বরিশাল শহরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে তাদের নিজেদের। তারা তাদের নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত ছিলেন। যারা এলাকার উন্নয়নে কোনো রকম উদ্যোগি ছিলেন না তাদের কেনো আপনারা ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন প্রশ্ন রাখেন প্রতিমন্ত্রী। পূর্বে টিআর,কাবিখা দ্বারা এলাকার কোনো উন্নয়নে কাজে আসে নি, রাস্তা ঘাটের কোনো কাজ হয়নি হয়েছে ব্যক্তির উন্নয়নে। নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ার করে খেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন; বরিশাল সদর উপজেলার সব ইউনিয়নে কি উন্নয়ন হয়েছে তা অনুধাবন করতে পারবেন বছর খানেক পরে। কারন চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে উন্নয়ন বোঝা যাবে। নেতাদের অনুরোধের অপেক্ষায় উন্নয়ন নয়। বরিশাল সদরের উন্নয়মূলক কাজ হবে জোন ভিত্তিক। কোন এলাকায় কি কাজ করা জরুরী তার ছবি তুলে আগামী পনের দিনের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য বলেন তিনি। সেগুলো নিয়ে আসলে তা দেখে বরিশালের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প নিবো। যেটা পাশ করিয়ে আগামী বছর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।   উন্নয়নে কোনো এলাকাই বঞ্চিত হবে না। সকল উপজেলা সকল ইউনিয়নে একযোগে উন্নয়ন করা হবে। বরিশালের উন্নয়নের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন; পানির সমস্যা সমাধানে নিরাপদ সুপেয় পানির জন্য চাহিদা এ প্রয়োজনীতার নিরিখে টিউবওয়েল বসানো হবে।  এই তিন বছরে আমি যতো টিআর-কাবিখার কাজ করেছি তা ঠিকাভাবেই করেছি। কেউ বলতে পারবে না টিআর কাবিখার থেকে আমি একটা টাকাও নিয়েছি। আমি টিউবয়েল দিয়েছে আরো টিউবয়েল দিবো। এটা হলে সামগ্রিকভাবে আপনাদের যে বিশুদ্ধ পানির সংকট সেটা থেকে আপনারা মুক্ত হবেন। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পূর্বে কেউই কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনাই । বিএনপির শাসনামলে খাল বন্ধ করে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে ফলে জলাবদ্ধা দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭টি খালের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। একমাসের মধ্যে প্রকল্প পাশ হলে আগামীতে বরিশাল শহরে কোনো জলাবদ্ধা থাকবেনা।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মোঃজামাল উদ্দিন, বিসিসিবি’র পরিচালক আলমগীর খান আলো, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধূ, বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মোঃ নিজামুল ইসলাম নিজাম,যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বার এবং আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য আজ সদর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ওপরে ১১ টি কাজের (স্কীমের) উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।