জনগণ এখন ভোটকেন্দ্র বিমূখ হয়ে গেছে

চকবাজার থানা বিএনপির মতবিনিময় সভায় ডা. শাহাদাত

চকবাজার থানা বিএনপির মতবিনিময় সভায় ডা. শাহাদাত

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তো বিএনপির দাবি ছিল না। এটা ছিল আওয়ামী লীগের দাবি, এ দাবি ছিল শেখ হাসিনার। এর জন্য আওয়ামীলীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন এবং গানপাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিলেন। এই আওয়ামী লীগই সেদিন তাদের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে দেশকে অচল করে দিয়েছিল। আর এখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধীতা করছে। কারণ আওয়ামী লীগ এখন সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা জানে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তারা জিততে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনী ব্যবস্থাটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। চকবাজার ওয়ার্ড় কাউন্সিলরের উপ নির্বাচনে চট্টগ্রামবাসী দেখেছে ভোটের কি করুণ অবস্থা। জনগণ এখন ভোটকেন্দ্র বিমূখ হয়ে গেছে।

শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট পুলিশ বিট সংলগ্ন ক্রিয়েটিভ পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে চকবাজার থানা বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আওয়ামীলীগ এখন প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। ভয়ংকর আইন করে, ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণকে দাবিয়ে রাখছে। কিন্তু এসব করে আওয়ামীলীগের শেষ রক্ষা হবেনা। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন হতেই হবে। যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে, বিএনপি সে নির্বাচন মেনে নেবে না। নির্বাচন নিয়ে নতুন কোন তালবাহানা জনগণ মানবে না।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামী লীগ এখন চেষ্টা করছে, আবার ক্ষমতায় আসতে। যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে না সে ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। এজন্য তারা ইভিএম চালু করেছে। এই ইভিএম তাদের আরেকটা বড় হাতিয়ার। কী করে ভোট ডাকাতি করা যায়, কী করে ভোট না পেয়েও নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণা করা যায় : সেই ইভিএম তারা করছে। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাশিয়াতে গিয়ে নির্বাচন পদ্ধতি দেখে এসেছেন। দিনের বেলায় কীভাবে ভোট চুরি করা যায়, সেটার ট্রেনিং নিয়ে এসেছেন তিনি।

নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, মানুষের অধিকার হরণ করার এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভিপি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রুরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর অনেকে ভেবেছিলো বিএনপি হয়তো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তার যোগ্য উত্তরাধিকারী, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পতাকা তুলে ধরেছিলেন। সেই পতাকা নিয়ে তিনি দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। দুর্ভাগ্য এই জাতির আজকের সেই নেত্রী ফ্যাসিবাদের নির্যাতনে মিথ্যা মামলায় গৃহবন্দী হয়ে আছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, সমগ্র দেশ এখন আওয়ামী দুঃশাসনের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার কেবলমাত্র বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীর ওপরই জুলম নির্যাতন চালাচ্ছে না, তারা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরকেও সত্য প্রকাশের কারণে নিষ্ঠুর নির্যাতন করছে। সত্য প্রকাশে নির্ভিক সাংবাদিকদের বিভিন্ন উপায়ে টুঁটি চেপে ধরার পর এখন সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করছে। এটি সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির আরো একটি নতুন কৌশল। নজিরবিহীন এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে চরম হুমকি।

চকবাজার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সি. যুগ্ম সম্পাদক আ.খ.ম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইস্কান্দার মির্জা, আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন। বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপি নেতা শাহ আলম, ডা. এস এম সারোয়ার আলম, জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সালাউদ্দীন কায়সার লাভু, মো. মহসিন, অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, আবুল খায়ের মেম্বার, সফিক আহমেদ, রফিক সরদার, থানা বিএনপি নেতা মসিউদ্দৌলাহ জাহাঙ্গীর, বেলায়েত হোসেন, খায়রুজ্জামান জুনু, আনিসুজ্জামান সায়মন, জহিরুল ইসলাম জিয়া, উসমান গনি লিটন, ওয়ার্ড় বিএনপির সভাপতি মন্জুর আলম মন্জু, রাসেল পারভেজ সুজন, সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বাবলু, হাজী আবু ফয়েজ, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন, রোকনউদ্দৌলাহ প্রমুখ।