জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসায় মানসম্মত শ্রেণিকক্ষের অভাব খরায় ও বর্ষায় লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। মাদ্রাসার একাডেমী ভবন প্রয়োজন

মোঃ জালাল উদ্দীনঃ জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসা মানসম্মত শ্রেণিকক্ষের অভাব, বাউন্ডারি ওয়াল নেই, পানীয় জলের সুব্যবস্থা নেই, প্রয়োজনীয় ল্যাট্রিনের    অভাব সহ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত, জানা গেছে জগন্নাথপুর গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ জালাল উদ্দীনের উদ্যোগে ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় নিভৃত পল্লী জগন্নাথপুর এলাকার জনসাধারণকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ২০০২ সালে  জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। জগন্নাথপুর মাদ্রাসায় বর্তমানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের ১৭ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা নিয়মিত পাঠদান করা হচ্ছে । এছাড়া ৪ জন কর্মচারী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় এগিয়ে নিতে তাদের বিভিন্নভাবে সিযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ মাদ্রাসায় ১০টি শ্রেণীকক্ষ রয়েছে। তন্মধ্যে মধ্যে ৫টি আধাপাকা ও ৫টি বাঁশের বেড়ায় টিনের চালা দেয়া । গরমের সময় প্রচন্ড গরমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী  হতে পারে না । আর বর্ষার সময় শ্রেণীকক্ষের ভিতরে ও বাহিরে সমান পানি পড়ে। ফলে লেখাপড়া চরমভাবে বিঘ্নিত হয।

জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসায় পানি পানের জন্য ২টি টিউবওয়েল আছে । এর মধ্যে ১টিতে আর্সেনিকযুক্ত যার পানি পানের জন্য অযোগ্য। এখানে শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র দুটি পায়খানা রয়েছে তাও মানসম্মত নয়।

জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারীরা অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে অভাব অনটনের মধ্যে সংসার চালিয়ে নিয়মিত মাদ্রাসায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। মাদ্রাসার প্রতিবছরের পাবলিক দাখিল পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক । ৯৬ এবং জেডিসি পরীক্ষায় পাশের হার শতভাগ রেকর্ড রয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদের দুঃখ-কষ্টের মাঝে এবারে মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্ত হয়েছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও এলাকার সাধারণ মানুষ আনন্দিত। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওঃ মোঃ আব্দুস সামাদ ও শিক্ষক বাবুল আক্তার জানান, তারা বেতন ছাড়াই দীর্ঘ ২০বছর মাদ্রাসা চালিয়ে আসছেন। এঅবস্থায় মাদ্রাসা চালানো কি যে কষ্টের তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এবারে আমাদের মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত করায় আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞ । মাদ্রাসার সুপার জনাব মাওলানা আব্দুস সামাদ আরো বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় হাজারো সমস্যা থাকা থাকলেও মাদ্রাসার প্রধান সমস্যা হচ্ছে মানসম্মত শ্রেনী কক্ষের অভাব। এ অবস্থায় মাদ্রাসায় একটি একাডেমিক ভবন খুবই প্রয়োজন ।এছাড়া বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া দরকার । মাদ্রাসার আয়ের কোন উৎস না থাকায় মাদ্রাসার নিজস্ব অর্থে একাডেমিক ভবন ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মাদ্রাসায় একাডেমিক ভ্রমণ নির্মিত হলে এ মাদ্রাসার লেখাপড়া মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।