চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে চসিকের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: ‘এখানে কেউ ২৫ বছর, কেউ ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন। বছরের পর বছর ধরে আমরা শুধুমাত্র আশ্বাসই শুনে এসেছি। আর আশ্বাস চাইনা। এক দফা, এক দাবি আমাদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে।’

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) টাইগারপাস নগর ভবনে চসিক অস্থায়ী-কর্মকর্তা কর্মচারী পরিষদের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালনে জড়ো হন নগর ভবনের সামনে। কিন্তু পূর্ব ঘোষিত শিডিউলের এই মানববন্ধন রূপ নেয় রীতিমত বিক্ষোভে। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সামাল দিতে বেকায়দায় পড়েন চসিক কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা। অবস্থা বেগতিক দেখে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় নগর ভবনের মূল ফটক। টাইগারপাস নগর ভবনে চসিক অস্থায়ী-কর্মকর্তা কর্মচারী পরিষদের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কর্মসূচি চলাকালে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকে নগর ভবন। তাছাড়া প্রায় সবক’টি অফিসে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বাইরের দিকে বন্ধ করে দেওয়া হয় চসিকের মূল ফটক। সীমিত হয় জনচলাচল। সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে নগর ভবনের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত প্রহরীদের।

এসয় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘এখানে কেউ ২৫ বছর, কেউ ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন। বছরের পর বছর ধরে আমরা শুধুমাত্র আশ্বাসই শুনে এসেছি। আর আশ্বাস চাইনা। এক দফা, এক দাবি আমাদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে।’

চসিকের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ কর্মসূচিকে মূলত মানববন্ধন বলা হলেও কর্মসূচির এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পর্যায়ে সামনে আসার চেষ্টা করেন চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের উপ-প্রধান কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম চৌধুরী। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে পিছু হটেন তিনি।

প্রায় ১৫ মিনিট পর মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, চসিক কাউন্সিলর গোলাম মো. জোবায়ের ও জহর লাল হাজারী পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন। কাউন্সিলর মো. জোবায়ের বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে বলেন, ‘আপনাদের দাবির সাথে আমরা একমত, মেয়র মহোদয়ও একমত। কিন্তু একটি গাছ লাগালে তা ফল দিতে সময় লাগে।’

কাউন্সিলর জোবায়েরের এ বক্তব্যের সাথে সাথেই তুমুল উত্তেজিত হয়ে ওঠে কর্মীরা। ‘ভুয়া-ভুয়া’ বলে স্লোগানের দিতে থাকে তারা। কর্মীদের তোপের মুখে পড়ে ভেতরে ঢুকে মূল ফটক লাগিয়ে দেয় চসিক কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা।

চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ ডিসেম্বর মানববন্ধন পালিত হবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে। ১৫ ডিসেম্বর কর্তৃপক্ষের সাথে স্থায়ীকরণের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা এবং ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ীকরণ কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে নগর ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট, কর্মবিরতি কিংবা অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।