চন্দনাইশের শঙ্খের পাড়ে কপি চাষ কৃষকের মুখে হাসি

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী চন্দনাইশ প্রতিনিধি: উপজেলার শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে চলতি মৌসুমে সহস্রাধিক একর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার কৃষক। বাজারে কপির চাহিদা এবং উৎপাদন ভালো হওয়ায় এখানকার কৃষকেরা স্বস্তিতে রয়েছেন।

চলতি মৌসুমে উপজেলার শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে ১০ হাজারের অধিক কৃষক সহস্রাধিক একর জমিতে দুই জাতের কপির চাষ করেছেন। কৃষকেরা বর্তমানে ফসল তোলা, বাজারজাতকরণ, ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, কপির দামও ভালো পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে কৃষকেরা উন্নত জাতের বীজ, পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানান।

বৈলতলীর কৃষক আহমদ ছফা বলেছেন, এবার ফুলকপি ও বাঁধাকপি মিলে দুই একর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। শীতের শুরু দিকে দাম বেশ ভালো পাওয়ায় খরচ উঠে লাভের দিকে যাচ্ছে। নিজের জমিতে চাষ করার ফলে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন বলে তিনি জানান। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন।

দোহাজারী জামিজুরির কৃষক জামাল উদ্দীন বলেছেন, বর্গা জমি নিয়ে এক একর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করেছেন। দাম বেশ ভালো পাওয়ায় তিনি খোশ মেজাজে রয়েছেন। ইতিমধ্যে জমির মালিককে খাজনার টাকা দিতে পারায় তিনি সন্তেুাষ প্রকাশ করেছেন। বর্গা চাষ করায় খরচ উঠে এলেও পরিশ্রমের দামটা এখনো মাঠে বলে জানালেন তিনি। তবে যে ফসল জমিতে রয়েছে, তা থেকে পরিশ্রমের পাওনাসহ লাভ উঠে আসবে তার। পাইকারেরা এখন আর চাষিদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না। ডিজিটাল বাংলাদেশ চাষিদের বাজারদর সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর চন্দনাইশের সবজির কদর পাইকারদের কাছে এখনো আকাশচুম্বী।

ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কুন্তল বড়ুয়া বলেছেন, শীতকালের সবচেয়ে মজাদার ও স্বাদের সবজির নাম ফুলকপি-বাঁধাকপি। এ দুই কপি সবজি প্রিয় মানুষদের খাদ্য তালিকায় শীতের বেশ কয়েক মাস শীর্ষ স্থান দখল করে রাখে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রচুর ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হয়ে থাকে প্রতি বছর। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। ‘দেখতে সুন্দর ফুলকপির প্রতি মানুষের আজন্মকালের লোভ। খেতেও দারুণ মজার। সে সঙ্গে বাঁধাকপি শীতকালের স্বাদ আলাদা করে দেয়। তাই শীতকাল এলে চন্দনাইশের তাজা সবজির ক্ষেত আমাদের মনটাকে প্রফুল্ল করে দেয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেছেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শীতকালীন সবজির ফলন ভাল হয়েছে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে পুষ্টির যোগান হিসেবে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বেশি পরিমাণে খাদ্য তালিকায় রাখার পরামর্শ দেন। চন্দনাইশের উৎপাদিত সবজি খুবই সুস্বাদু। ফুলকপি-বাঁধাকপি দেখতে যেমন, স্বাদেও তেমন। তাই সারা চট্টগ্রামে চন্দনাইশের ফুলকপি-বাঁধাকপি চাহিদা প্রচুর।