চট্টগ্রাম রেলের জায়গায় হবে শপিংমল,থাকবে হোটেল, সিনেপ্লেক্স ও বিনোদনকেন্দ্র

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর সিআরবিতে রেলের জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ। এ নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। এর রেশ না কাটতেই এবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মাণ করতে যাচ্ছে শপিং মলসহ হোটেল কাম গেস্ট হাউজ।

১১ জানুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে রেলভবনে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি অংশীদার কোম্পানি এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেডের সাথে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে রেলওয়ের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. আহসান জাবির এবং এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক আনোয়ার হোসেন। প্রকল্পের নির্মাণ সময় ধরা হয়েছে চার বছর।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ছাড়াও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী সুলতানা আফরোজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর, রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রত্যেক জেলার সাথে রেলের সংযোগ ঘটাতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি রেলের ভূমি থেকে আয়করে ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে জোর দেয়া হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা বাণিজ্য ও মালামাল পরিবহন এবং প্রতিবেশি দেশসহ অন্যান্য দেশের সাথে রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করার লক্ষ্য নিয়ে রেল এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু গেল ৫০ বছরে সেই অর্থে রেলের উন্নয়ন হয়নি। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের বাইরেও যাতে রেল লাভ করতে পারে তারই ধারাবাহিকতায় এ প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।

রেলসুত্রে জানা যায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশন এলাকার ২৭ কাঠা জমির ওপর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ১৫ তলা শপিং মলসহ হোটেল কাম গেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে এপিক প্রপার্টিজ। ২০১৩ সালে ২৯ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ৪০ বছর পর এটি সম্পূর্ণ রেলের অধীনে চলে যাবে। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ও পে এন্ড ক্যাশ অফিসের মাঝামাঝি স্থানে এটি নির্মিত হবে।

প্রকল্প সংশ্লিস্টরা জানান, চট্টগ্রাম হচ্ছে শিল্প ও ব্যবসার জন্য দেশের অন্যতম শহর। পর্যটনেও এ শহরের গুরুত্ব থাকায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য অনেক পর্যটক এখানে আসেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হলেও হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্স আছে কম। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা ও পর্যটনে বাহির থেকে আসা মানুষ উন্নতমানের সুযোগ-সুবিধা পাবে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রেলওয়ের চাকরিজীবীরা উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে। রেলের আয় বাড়বে এবং রেল সম্পদের সঠিক ব্যবহার হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য রেলের অব্যবহৃত জমিকে বেছে নেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার প্রকল্পের কাজ শুরুর চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী সুলতানা আফরোজ বলেন, রেলওয়ের সাথে পিপিপি’র ১২টি প্রকল্প রয়েছে। এরমধ্যে দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। রেলের নেতৃত্বে এসব প্রকল্প আরো বেশি গতি পাবে।

এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবির আমার সময়কে বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জমিতে শপিং মলসহ হোটেল-কাম-গেস্ট হাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড-চট্টগ্রামের সাথে এই ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ৪০ বছর। প্রকল্পের কাজ আগামী ৪ বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। চট্টগ্রাম স্টেশন রোড সংলগ্ন রেলওয়ের পে এন্ড ক্যাশ অফিসের পূর্ব দিকে-ফলমন্ডির সাথে লাগানো রেলওয়ের শূন্য দশমিক ৪৫২ একর জমি ২০১৮ সালে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। এতে এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড-চট্টগ্রাম এবং তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বেস্টওয়ে প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড যোগ্য বিবেচিত হয়। নির্মাণকালসহ ৪০ বছর পর স্থাপনাটি রেলওয়ের শতভাগ মালিকানায় পরিচালিত হবে। বেসরকারি অংশীদার কমপ্রেঙ নির্মাণের পর ১ হাজার বর্গফুট জায়গা রেলওয়েকে হস্তান্তর করবে। জমির মালিকানা থাকবে রেলওয়ের অধীনে।