চট্টগ্রাম মহানগরে মাহতাব-নাছিরে ঐক্য, ইউনিট সম্মেলন দিয়ে শুরু পূর্ণগঠন প্রক্রিয়া

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে চলছে দলীয় কার্যক্রম। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে এমন ঐক্য ঈর্ষনীয় চোখে দেখছেন অনেক নেতা। তবে তৃণমূল নেতারা বলছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগে যে সম্প্রীতি তা দলের জন্য অবশ্যই মঙ্গলজনক।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। তখন নগরের রাজনীতিতে দুই নেতার দুই গ্রুপে সক্রিয় ছিল। তবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ার পর মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সাধারণ সম্পাদকের সাথে মিলে-মিশে কাজ করছেন। যে কোনো সিদ্ধান্ত দুইজনের আলোচনার মাধ্যমে নিচ্ছেন।
যদিও নগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন এখনো দুই ধারায় বিভক্ত। সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুসারীরা এখন মহিউদ্দীনপুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসরণ করছেন অপরদিকে আ.জ.ম নাছির উদ্দীনকে অনুসরণ করছেন একটি পক্ষ। ফলে নগর রাজনীতিতে দুই পক্ষ থাকলেও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে আছে ঐক্য। যা অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে নেতাকর্মীদের।
তবে সম্প্রীতি নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে বর্তমান কমিটিকে অবৈধ বলে বেশ বেকায়দায় ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
মেয়রের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, কমিটি অবৈধ হলে আপনি সভায় এসেছেন কেন? যতক্ষণ পর্যন্ত সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কমিটি বৈধ। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ শমসের চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে মেয়রের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
দলটির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যদি নগর আওয়ামী লীগের কমিটি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে তিনি এখনো কেন পদ ধরে আছেন। অবৈধ কমিটি থেকে পদত্যাগ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুক তিনি। মেয়র নির্বাচনের আগে নগর কমিটির নেতারা জীবনবাঝি রেখে করোনা ঝুকি নিয়ে তাঁর জন্য কাজ করেছে, আর এখন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সেই নগর কমিটি অবৈধ হয়ে গেছে প্রশ্ন রেখেছেন অনেকে।
জানতে চাইলে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিটি তিন বছর মেয়াদী, মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়েছে এই কমিটির। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এই কথাটি বলেছিলাম। এখানে হট্টগোল বা অন্য কোনো কিছু হয়নি।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ইউনিট কমিটি করতে পারেন কি না জানতে চাইলে মেয়র বলেন, যদি কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমতি দেয় তাহলে ইউনিট কমিটি গঠন করতে পারবে।
নগর আওয়ামী লীগে কোন বিভাজন বা গ্রুপিং আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন করে এ কথা বলে লাভ কি, সবাই জানে গ্রæপিং আছে কি নাই। তবে আগের চেয়ে গ্রুপিং অনেকাংশে কমেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ইউনিট সম্মেলন করছি। আমাদের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের পরামর্শে ও নির্দেশনায় আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে ইউনিট, ওয়ার্ড সম্মেলন করছি।
এরপরও যদি কেউ এটাকে অন্যভাবে মনে করে তাহলে সেখানে আমাদের কিছু করার নাই। তারা সরাসরি দলীয় সভানেত্রী বা সাধারণ সম্পাদককে বলতে পারেন। দলের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে সম্মেলন করার জন্য বলেন তিনি।
গ্রুপিং রাজনীতির বিষয়ে আ.জ.ম নাছির বলেন, গ্রুপিং বলতে এখানে কোনো শব্দ নাই। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কর্মী। দলের প্রয়োজনে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিভেদ নাই, তবে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি আছে, আশা করি তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন।
জানা যায়,  চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৬ সালে। সেই সম্মেলনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি এবং কাজী ইনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দানু মারা যান। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর নগর আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেন্দ্র থেকে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যাতে সভাপতি হন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যান মহিউদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।