চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি ইতালির পথে ছুটলো জাহাজ

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিয়ে ইতালির পথে রওনা দিয়েছে ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’ জাহাজটি।

বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বৃহৎ গন্তব্য ইউরোপের দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি হয় অন্য দেশের বন্দর ঘুরে। সেখানে অপেক্ষায় থাকতে হয় বড় জাহাজের বুকিং পেতে।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে সঙ্কট কাটিয়ে প্রায় পুরোপুরি সচল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

এর মাধ্যমে শুরু হলো বাংলাদেশ-ইতালি সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল। পোশাক রপ্তানি খাতে খুলে গেল নতুন দিগন্ত। এই পথে রফতানির পোশাক ইউরোপ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র দুই সপ্তাহ, খরচ কমবে ৩০-৪০ শতাংশ।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ৪৯৩ বক্সে ৯৫০ টিইইউস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি জেটি ত্যাগ করে জাহাজটি। এর আগে এনসিটি জেটিতে বাংলাদেশ-ইতালি রুটে জাহাজ চলাচল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ইতালি সরাসরি জাহাজ চলাচল আমাদের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা। পোশাক রফতানির গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতালি-চট্টগ্রাম রুটের জাহাজকে বার্থিং, কি গ্যান্ট্রি ক্রেন বরাদ্দসহ সব সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইতালি থেকে আসার পথে জাহাজটি বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার আনতে পারবে। অন্যান্য শিপিং লাইনও এ ধরনের সরাসরি জাহাজ চালু করতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক, রিলায়েন্স শিপিংয়ের চেয়ারম্যান মো. রাশেদ প্রমুখ।

এর আগে শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১টায় ইতালি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৪ জেটিতে ভিড়েছিল এ রুটের প্রথম জাহাজ ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা বা মালয়েশিয়ার বন্দরে প্রথমে পোশাক রফতানির কনটেইনার পাঠানো হতো। সেখান থেকে বড় জাহাজে সেই কনটেইনারগুলো ইউরোপ আমেরিকার বায়ারদের কাছে যেত। চট্টগ্রাম থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে পাঠানো এবং সেখান থেকে পুনরায় বায়ারের কাছে পণ্য পৌঁছাতে সময়ক্ষেপণ ও ব্যয় বেশি হতো। এ পদ্ধতিতে ইতালিতে পণ্য যেতে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগে ২৪- ২৮ দিন। সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কায় বড় জাহাজে বুকিং পেতে দেরি হলে সময় লাগে ৩০-৩৫ দিনের বেশি। ইতালি-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখা গেলে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। কারণ এতে লিড টাইম ও ভাড়া সাশ্রয় হবে।

গত ২৩ ডিসেম্বর প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ইতালি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়। প্রথম যাত্রায় ইতালি থেকে শুধু খালি কনটেইনার আনা হয়েছিল। জাহাজটি আবার চট্টগ্রামে আসবে ১৫ মার্চ।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার কেলাং ও তেনজুং পেলাপাস এবং চীনের কয়েকটি বন্দরে সরাসরি কন্টেইনারবাহী জাহাজ চলাচল করে।

কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে বেশি গভীরতার বড় আকারের জাহাজ ভিড়তে না পারায় রপ্তানি পণ্যবাহী মাঝারি ও ছোট আকারের জাহাজে পণ্য নিয়ে যেতে হয় ওইসব বন্দরে। সেখান থেকে বড় জাহাজে করে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যায় রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনারগুলো।