চট্টগ্রাম টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভূমি কর্মকর্তাসহ আটক দুই জন, একজন পলাতক

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম
এক কোটি ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) ও অফিস সহায়কআটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন আরো একজন।

আটককৃতরা হলো, কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ও তার সহযোগী এমদাদ।

জানা যায়, শাহাদাত হোসেন তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল মহানগর আগ্রাবাদ সার্কেলের দক্ষিণ পাহাড়তলি ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীল সময়ে সহযোগী এমদাদসহ ভূমি উন্নয়ন করের চালান জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫.৫৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। উক্ত ভূমি উন্নয়ন করের টাকা সরকারের কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও তারা জমা না দিয়ে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করেন।

চলমান অভিযানের অংশ জেলা প্রশাসকের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে তিনি অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন ও অফিস সহায়ক এমদাদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

এরই প্রেক্ষিতে আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল শাহাদাতকে আটক করে ডবলমুরিং থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

বর্তমানে অফিস সহায়ক এমদাদও দুদকের কাছে আটক রয়েছে।

অন্যদিকে সুমন চৌধুরী বর্তমানে কর্ণফুলী ভূমি অফিসের আওতাধীন শিকলবাহা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত।

একইভাবে সুমন চৌধুরী শিকলবাহা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় চালান জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন করের ৩০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। একই ব্যাক্তি এর পূর্বে রাংগুনিয়া ভূমি অফিসের আওতাধীন ঘাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও ভূমি উন্নয়ন করের প্রায় ৭১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

সরকারী কোষাগারে উক্ত অর্থ জমা দেয়ার কথা থাকলেও তিনিও চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে এক কোটি ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন তাৎক্ষনিক তার বিরুদ্ধে মামলা করে। বর্তমানে অভিযুক্ত সুমন পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের জন্যে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানেই দূর্নীতির বিষয়টি পাওয়া যাচ্ছে ও যারা দূর্নীতিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এল.এ শাখায় দূর্নীতি করার কারণে দুই দালালসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের চলমান দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে ইতঃপুর্বেও ৫ জনকে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে। অনেককে বরখাস্ত করা হয়েছে ও দূর্গম এলাকায় বদলি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের এ ধরনের দূর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।