চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’ বিদেশ যাত্রা

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে গতি আনতে (সিডিএ) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি চার সদস্যের টিম বিদেশে যাত্রা করছেন। স্লুইচগেটের গেট দেখতে নেদারল্যান্ডস এবং জেনারেটর দেখতে লন্ডন যাচ্ছেন। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে টিমটি নেদারল্যান্ডস ও লন্ডন গিয়ে গেট এবং জেনারেটর দেখবে। এরপর এগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। গেটগুলো না আসায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৭টি স্লুইচগেট নির্মাণ করা হলেও সেগুলো নগরবাসীর কাজে লাগছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে আসবে গেট ও জেনারেটর। সিডিএর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীতে মোট ১৭টি স্লুইচগেট স্থাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় ৫টি এবং প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১২টি স্লুইচগেট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি স্লুইচগেটের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এসব অবকাঠামোতে ব্যবহৃত মূল গেট আনা হবে নেদারল্যান্ডস থেকে। গেটগুলোতে যাতে জং না ধরে তা নিশ্চিত করতে উন্নত মানের কম্পোজিট আয়রন দিয়ে গেটগুলো তৈরি করা হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসে গত বছর থেকে গেটগুলো তৈরি শুরু হয়েছে। করোনাকালে গেট তৈরির কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এতে করে গত জুন মাসে গেটগুলো দেশে আসার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ইউরোপে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর গেটগুলো তৈরির ব্যাপারে তাগাদা দেওয়া হয় সিডিএ থেকে। নেদারল্যান্ডসের সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে গেট তৈরির কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। নেদারল্যান্ডস গেটগুলো সরবরাহ দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানালে সিডিএর পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চার সদস্যের একটি দল নেদারল্যান্ডস গিয়ে গেটগুলো পরীক্ষা করবে। সিডিএ টিমের পরিদর্শনের পর সবকিছু ঠিক থাকলে গেটগুলো এনে স্লুইচগেটের অবকাঠামোতে স্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলেন, সিডিএ যে ১৭টি গেট নেদারল্যান্ডস থেকে আনা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে মেগা প্রকল্পের ৫টি গেট তুলনামূলকভাবে ছোট। এর মধ্যে মহেশখালের গেটটি একটু বড়। বাকি চারটি গেট স্থাপনে বেগ পেতে হবে না। তবে কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক কাম বেড়িবাঁধে ব্যবহৃত ১২টি স্লুইচগেট বিশাল। এই গেটগুলোর প্রতিটিতে ১০/১২টি ব্যান্ড রয়েছে। এগুলো স্থাপনে বেগ পেতে হবে।

নেদারল্যান্ডসে গেট পরিদর্শনের পাশাপাশি সিডিএর টিমটি লন্ডন গিয়ে জেনারেটর পরিদর্শন করবে। প্রতিটি স্লুইচগেটে একটি করে জেনারেটর থাকবে। এসব জেনারেটর লন্ডন থেকে আনা হচ্ছে। জেনারেটরগুলো দেখে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিডিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী হাসান বিন শামস বলেন, নেদারল্যান্ডসে গেট এবং লন্ডনে জেনারেটর দেখার জন্য প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞসহ চার সদস্যের টিম যাবে। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা সবকিছু ঠিক আছে কিনা পরখ করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে গেট ও জেনারেটর জাহাজিকরণ করা হবে। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে গেট এবং জেনারেটর চলে আসবে। আগামী বর্ষায় চট্টগ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সুফল পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।