চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার টেবিলে ছিটানো কয়েক হাজার টাকা নিয়ে তোলপাড়

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইশরাত নূরের টেবিলে ছিটানো কয়েক হাজার টাকা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের অভিযোগ, পিয়নের মাধ্যমে সংগৃহীত ঘুষের টাকা টেবিলে রাখা হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রশাসনকে বিব্রত এবং কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে ঘটনা সাজানো হয়েছে। কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ইশরাত নূরের টেবিলে কয়েক হাজার টাকা রেখে ভাঁজ করছেন এক যুবক। সামনে কয়েকজন তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন। টাকাগুলো ইশরাত নূরের দিকে ঠেলে দিয়ে ওই যুবক বলছেন, এসব আপনার টাকা; তখন ইশরাত নূর টাকাগুলো সামনের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায়। এ সময় আশপাশের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়; ম্যাডামের টাকা দিয়ে দাও।

ওই যুবকের নাম জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘আমার নাম রাজু, ম্যাডামের নাম ইশরাত নূর। এই টাকা কার? ম্যাডামের- বলেন রাজু। পাশের আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, মানুষকে কষ্ট দেয়, মনে করেন এক ঘণ্টার ফাইল, তিন দিনেও স্বাক্ষর করে না।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ ঘটনা ঘটে। ওই কর্মকর্তার পিয়ন রাজুকে ঘুষের টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করতে বাধ্য করেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মীরা। ঘটনার পরদিন ইশরাত নূর চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম আরো  বলেন, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে কাস্টমস কর্মকর্তা দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের অসদাচরণ প্রমাণিত হলে তার লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিডিও পর্যবেক্ষণ করলেই পরিকল্পিত সাজানো ঘটনা বোঝা যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিম্ন শ্রেণির কোনো স্টাফও এভাবে টাকা নেবে না। ওখানে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের ভাষায় প্রমাণ করছে ঘটনা কী। ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা ও বিব্রত করতেই এমন ঘটনা সাজানো হয়েছিল অভিযোগ করে পরদিন লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন এবং সিঅ্যান্ডএফ নেতাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৪ সালে টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৭ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হয়। কাস্টম হাউসে অস্থায়ী পিয়নের মাধ্যমে এসব দুর্নীতির টাকা সংগ্রহ করা হয়। তারা ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের কাছে ‘ফালতু’ হিসেবে পরিচিত। দুর্নীতি রোধে কাস্টমসের শুল্কায়ন থেকে শুরু করে সবকিছু অটোমেশনের সুপারিশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে।