চট্টগ্রাম কালুরঘাঠ সেতু সংস্কারে বুয়েটের ১৯ প্রস্তাবনা, পরামর্শক ফি সাড়ে ১২ কোটি টাকা

জাহাঙ্গীর আলম: চট্টগ্রাম কালুরঘাট সেতু মেরামত করে কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচলের উপযোগী করতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম। সেতুটি মেরামতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ফি বাবদ চাওয়া হয়েছে সাড়ে ১২ কোটি টাকা।

দ্রুত সময়ে সেতুটি সংস্কারে ১৯টি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রস্তাবনা অনুমোদন করলে কালুরঘাট সেতু মেরামতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে বুয়েট।

পুরনো কালুরঘাট সেতু দিয়ে কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচলের জন্য কী কী প্রয়োজন হবে তার সম্ভাব্যতা যাচাই করবে বুয়েট টীম। প্রস্তাবনা অনুযায়ী টেন্ডার আহবান করে সেতুটি মেরামত করা হবে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবির আমার সময়কে জানান, কালুরঘাট সেতু মেরামতের বিষয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের প্রস্তাব (প্রতিবেদন) দিয়েছেন। তাঁরা পরামর্শক ফি বাবদ ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করেছেন। এখন বুয়েটের প্রস্তাব রেল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। বুয়েটের প্রস্তাবের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। টাকাটা একটু বেশি মনে হলেও কথাবার্তা বলে হয়তো ঠিক করা হবে। এখনও ফাইনাল হয়নি। রেল মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে পরার্মশক নিয়োগ দেয়া হবে বুয়েটকে। এরপর কালুরঘাট সেতু ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য প্রস্তাবনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, বয়সের ভার আর বিপুল যানবাহনের চাপে ক্রমশ নুয়ে পড়া একমুখী ‘কালুরঘাট সেতু’ দীর্ঘসময় ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাংশের জনগণের বহুমুখী দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। রেল সেতুটির স্থানে স্থানে ছোট–বড় গর্ত। কোথাও হাড়গোড় উঠে গেছে। গর্তে ট্রাক পড়লে ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে ওঠে পুরো সেতু। সেতুতে ক্ষত এত ভয়াবহ যে গর্তের ভেতর থেকে নদীর পানি দেখা যায়। এ সেতু বারবার সংস্কার-মেরামত করে জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুটি একেবারেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সহসা নতুন সেতু হওয়ার সম্ভাবনাও কম। তাই রেল কর্তৃপক্ষ জরাজীর্ণ এ সেতু দিয়ে কীভাবে ট্রেন চলাচল করবে তা জানতে বুয়েটকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়। বুয়েটের পক্ষ থেকে তাতে সম্মতি দেয়া হয়। এরপর বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল গত ৯ অক্টোবর সেতুটি পরিদর্শন করেন।