গ্রীস যাওয়ার পথে  তুষারপাতে ফেনীর যুবকের মৃত্যু

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ,স্টাফ রিপোর্টার, ফেনীঃ তুরষ্কের ইস্তাম্বুল থেকে অবৈধ পথে গ্রীসে যাওয়ার পথে তুষারপাতের কারণে ফেনীর বারাহিপুর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম শাহীন নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি তুরষ্ক – গ্রীস সীমান্তে উদ্ধার হওয়া ১৯ অভিবাসীর মরদেহের মধ্যে শাহীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।

পরিবার জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি গ্রীসের উদ্দেশ্যে তার রওনা দেওয়ার কথা ছিল, এরপর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিলো না। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রীস-তুরষ্ক সীমান্তে ১৯ জন অভিবাসীদের মৃত্যুর খবর ও কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে একটি ছবিতে চোখ আটকায় তাদের, পরে বিভিন্ন মাধ্যমে নিহতদের মধ্যে শাহীন রয়েছে বলে নিশ্চিত হন তারা। এই ঘটনায় শাহীনের পরিবার সহ এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শাহীন ফেনী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকার আবদুর রূপ মাষ্টার বাড়ির মিজানুর রহমানের ছেলে।

শেষবারের মতো সন্তানকে এক নজর দেখতে শাহীনের মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের আকুতি জানিয়েছেন শাহীনের পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)  তুরষ্কের পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তে  ১২ জন অভিবাসীর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। তার একদিন পর গত ৩ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার)  আরও ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়।

জানা যায়, তুরষ্ক থেকে গ্রীসের উদ্দেশ্যে গত ৩১ জানুয়ারি ২১ জনের একটি অভিবাসী দল রওনা দেয়। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত,আফ্রিকা সহ বেশকিছু দেশের নাগরিকরা ছিলেন।  পথিমধ্যে গ্রীস সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনীরা অভিবাসী দলটিকে ফিরিয়ে দেয়। তবে তুরষ্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয় অভিবাসী দলটির সদস্যদের ফিরিয়ে দেওয়ার আগে তাদের জ্যাকেট, জুতা সহ শীতবস্ত্র কেড়ে নেয়। যার ফলে তীব্র ঠান্ডায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে তুরষ্কের এমন দাবিকে অস্বীকার করেছে গ্রীস। এই ঘটনায় দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানা যায়। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।