গোয়ালন্দে জমির অধিকার চেয়ে প্রতিবন্ধীর মানববন্ধন

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জমির অধিকার চেয়ে এক প্রতিবন্ধীর মানববন্ধন। গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে এই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ১৫শতাংশ জমি প্রতারণার মাধ্যমে দখল এবং আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে প্রতিবন্ধী ওমর আলী সহ এলাকাবাসী। আজ সোমবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে ৩০মিনিট ব্যাপি মানববন্ধন কর্মসূচি ও মহাসড়কে কাউন্সিলর শাহিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এসময় দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেনী-পেশার ২শতাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান শেখ, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আকাশ শাহা, মুনসুর, সাইদ ফকির সুরুজ ফকির প্রমুখ।
ঘটনার বিবরনে জানাযায় পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা এক শারীকিক প্রতিবন্ধীর ১৫ শতাংশ জমি হাতিয়ে নিয়েছে । প্রতারিত ব্যাক্তির নাম ওমর আলী (৬০)। তিনি রাজবাড়ী শহরের ৩ নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।
 গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ৮৭ নং উত্তর উজানচর মৌজার বিএস প্রস্তাবিত ৮৯২/২ নং খতিয়ানের ২২৯৩ নং দাগের মধ্যে আমার ২৯ শতাংশ জমি আছে। বছরখানেক আগে তিনি জমিটা বিক্রির চেষ্টা করেন। জমিটির সীমানা জটিলতা থাকায় কমিশনার শাহিনের কাছে তিনি কয়েক বার যান।  কিন্তু তিনি নানা তালবাহানা করে তাকে হয়রানী করতে থাকে। এক পর্যায়ে কমিশনার শাহিন নিজেই জমিটি ক্রয় করার ইচ্ছে পোষন করলে তিনি প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দেড় লক্ষ টাকা ধার্য করলে কমিশনার সাহেব তাতেই রাজি হয়ে যায়।
এ অবস্হায় গত ১১ এপ্রিল তিনি আমাকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে জমিটি বেঁচাকেনার বায়না করার কথা বলে গোয়ালন্দ সাব-রেজিস্টার অফিসে নিয়ে যান। সেখানে একজন দলিল লেখকের ঘরে আমাকে বসিয়ে রেখে কমিশনার শাহিন আমার ওই জমির পাওয়ার অব এ্যাটর্নি পেপার প্রস্তুত করে এবং প্রতারনার মাধ্যমে বায়নাপত্রের কথা বলে সেখানে আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। পরে সাব রেজিস্টারকে ম্যানেজ করে ওই কাগজ পাকাপোক্ত করে নেয়। এরপর তিনি আরো ভালো দামে আমার জমি বিক্রি করে দেবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন।
পরে তিনি ওই পাওয়ার অব এ্যাটর্নির বলে আমাকে বোকা বানিয়ে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান নামে এক ব্যাক্তির নিকট ওই জমি ৩২ লক্ষ টাকায় বিক্রি বাবদ ২০ লক্ষ টাকা নেয়। সেখানে তার পাশাপাশি আমার স্বাক্ষরও সে নিয়ে নেয়। আমাকে সে আপাতত আড়াই লক্ষ টাকা দেয়ার কথা বলে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখার গিয়ে দেখি তার এ্যাকাউন্টে কোন টাকা নেই।
এদিকে আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সে এ ধরনের ভয়াবহ প্রতারনা করায় আমি গত ২ নভেম্বের মঙ্গলবার গোয়ালন্দ উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেই। সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রফিকুল ইসলাম কমিশনার শাহিনকে দ্রুত তলব করে আনেন। কিন্তু তিনি এসিল্যান্ডকে তোয়াক্কা না করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এখন সে ও তার সহযোগী পৌরসভার কর্মচারী আকরাম হোসেন আমাকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভিতি দেখাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পৌর কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা বলেন, ওমর আলী মল্লিকের ১৫শতাংশ জমির মধ্যে ৫-৬ শতাংশ জমি দখলে রয়েছে বাকী জমির দখল জনিত সমস্যার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ ওমর আলী মোল্লা অন্তত ১৫দিন ঘুরে আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। পরে জমির দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে নগদ এক লাখ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করি। অথচ গত পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আমার প্রতিপক্ষ তাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করাচ্ছে। আদৌ এর কোনো সত্যতা নেই।