গুলশানের ‘র ক্যানভাস’ বারে অভিযান, ১.৬৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

জাহাঙ্গীর আলম: গুলশানের ‘র ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর গুলশানের ‘র ক্যানভাস বার’ এ অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে উদঘাটিত পরিহারকরা ভ্যাট আদায় ও অনিয়ম সংঘটনের মামলাটি সংশ্লিষ্ট ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর গুলশান এভিনিউর ‘র ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ নামে প্রতিষ্ঠানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিয়ে বারে মদ ও মদ জাতীয় দ্রব্য এবং রেস্টুরেন্টে খাবারের সেবা প্রদান করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত সেবা বিক্রি গোপন করে চালান ছাড়া সেবা সরবরাহ করে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থার উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদ ১৯ ডিসেম্বরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উদ্ধারকরা মাদক সংক্রান্ত রেজিস্টারে উল্লেখিত মজুদের পরিমাণ এবং দুটি কাউন্টারে রক্ষিত দেশি-বিদেশি মাদক দ্রব্যের তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে ধারণকরা তথ্যাদি যাচাই করে সেবা বিক্রির গোপন তথ্য পাওয়া যায়। যা ভ্যাটের প্রকৃত দলিলের সঙ্গে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী ৬ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৮২১ টাকার বিক্রয় মূল্যের ওপর ৭৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৩ টাকার ভ্যাট প্রযোজ্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি গুলশান ভ্যাট সার্কেল-৪ এ দাখিলপত্রের মাধ্যমে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। সেখানে ৭৪ লাখ ৮ হাজার ৩১৪ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়মূল্যের ওপর ৮৮ লাখ ৪২ হাজার ১৪৮ টাকা সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য হলেও সেখানে ৮৬ লাখ ৫২ হাজার ১৩ টাকা সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির তথ্যও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার অনুসারে কম মদ ও মদজাতীয় পণ্য মজুদ থাকায় ৩৭ হাজার ৪০৪ টাকার ভ্যাট ও ৪১ হাজার ৫৬০ টাকার সম্পূরক শুল্কের তথ্য পাওয়া যায়।

এসব অনাদায়ী ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কের ওপর ২ শতাংশ সুদসহ মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৭ টাকা রাজস্ব ফাঁকি তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট আইনের নির্দেশনী উপেক্ষা করে হাতে লেখা কাঁচা চালান ইস্যু করতে দেখা যায় সরেজমিন অভিযানে।

প্রসঙ্গত, বারে যে কোনো খাবারের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য।