গাজীপুরে ৫০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে লাল জাতের ধান

জি.আর.আকন্দ মহানগর প্রতিনিধি,গাজীপুর: সকলের কাছেই জনপ্রিয় হচ্ছে লাল চাল। জনপ্রিয় হলেও উৎপাদন কম হওয়ায় রয়েছে এরদুষ্প্রাপ্যতা। একজন উদ্যোক্তা গাজীপুরে ৫০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন বিনা-১৫ ও বিনা-২০ জাতের লাল চালের ধান। ধান চাষে খরচ একটু বেশি হলেও ফলন হয়েছে বেশ। একদম সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে এই লাল জাতের ধান। ব্যবহার করা হয়েছে নিজ হাতে তৈরি জৈব সার। এই ফসল উৎপাদন করেছেন উদ্যোক্তা রিজভী
আহমেদ। রিজভী আহমেদ এর বাড়ি বৃহত্তর পাবনা জেলার নগরবাড়িতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা শেষ করে ন্যাচারাল ফুড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করছেন এখন। তিনি স্বদেশ ফুড এন্ড বেভারেজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটির ৬০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেছেন এই লাল চালের ধান চাষ। রিজভী আহমেদ বলেন, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান স্যারের সার্বিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আমি লাল চালের ধান চাষ করছি। আমি সবসময় চাই বাজারে গুণগত ভালো মানের পন্য আসুক। আমি সবসময় চেয়েছি ভেজালমুক্ত অর্গানিক ফুড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। এই ধান উৎপাদন করতে প্রায় তিনগুণ বেশি টাকা খরচ হয়েছে। আমি নিজ হাতে বানানো জৈব সার ব্যবহার করেছি এখানে। লাল ধান চাষে খরচ একটু বেশি হলেও আমি চাই মানুষ ভালো মানের খাবার গ্রহণ করবে। প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে রোপণকৃত লাল ধানের অর্ধেকর বেশি পেকে গেছে ধানকাটাও শুরু হয়ে গেছে। ধান গুলো তিনটি মাধ্যমে প্রসেস করবো। এর মধ্যে কিছু ধান মারাই করার পরেই বিক্রি করে দেওয়া হবে, কিছু ধান মেশিনের মাধ্যমে চাল তৈরী করবো এবং বাকি চাল গুলো ঢেঁকি ছাটা করবো এবং সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে বাজারজাত করবো। স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞরা বলছে, সাধারণ চাল থেকে লাল চাল বেশি গুনে পুষ্টিকর, এই লাল চালে প্রচুর অ্যানথোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অ্যানথোসায়ানিন শরীরে প্রদাহ, অ্যালার্জি কমায়। লাল চাল ওজন ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমায়। স্বাস্থ্যগত কারনেই সাদা চালের চেয়ে লাল চাল অনেক ভালো।