গরু খামারি জুয়েল হোসেনের স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই 

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি গরু খামারির স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ঐ গরুর  খামারির খামারে আগুন লেগে খামারে থাকা ১১টি গরু পুড়ে ছাঁই হয়েছে।

১৬ মে (সোমবার)  ভোরে উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের পশ্চিম চকবাহ্রা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুটি ঘরসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক জুয়েল হোসেনের পরিবার।

জুয়েল হোসেনের ভাই আব্বাস বলেন, কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ১১টি গরু মোটা তাজাকরণে জুয়েল ব্যস্ত থাকত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খামারে পশুর জন্য শ্রম দিত সে। কিন্তু সোমবার ভোরে খামারে হঠাৎ আগুনে আমার ভাইয়ের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। কি থেকে কি হল কিছুই জানি না কেউ। তিনি আরও বলেন, আগুনে ১১টি গরু পুড়ে যাওয়ায় এখন আমার ভাই মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাহ্রা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সালাহউদ্দিন বাবু বলেন, এতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন জুয়েল। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সহজ হবে না।

বাহ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. সাফিল উদ্দিন মিয়া বলেন, আসন্ন কোরবানীকে সামনে রেখে ঋণের টাকায় ১১টি গরু কিনেন জুয়েল। কোরবানীতে এ গরুগুলো বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন এ আশায়। সেকারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজ সন্তানের ন্যায় কঠোর পরিশ্রম করতেন জুয়েল। শুধু জুয়েল নয় বাড়ির নারী পুরুষ সকলেই ছিল একাজে জড়িত। হঠাৎ আগুনে গরুগুলো পুড়ে যাওয়ায় সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সে। তিনি আরও বলেন, তার পাশে সরকারি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া দরকার। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেছি।

৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রানু বেগম বলেন, জুয়েল কৃষিকাজও করেন। এর আগেও হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু ও রসুন চাষ করে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছে জুয়েল। এখন আবার গরুগুলো পুড়ে মরে যাওয়ায় একেবারেই পথে বসে গেছেন।

এদিকে জুয়েলের পাশে সরকারকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহবান জানান তার এলাকাবাসী।