খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যারের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে সরকার নরসিংদীতে সার কারখানা পরিদর্শন কালে —-শিল্পমন্ত্রী 

নরসিংদী থেকে মোঃ মনসুর আলী শিকদার: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যারের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে সরকার প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন একথা বলেন। শিল্পমন্ত্রী ১১ ডিসেম্বর শনিবার নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার প্রকল্প পরিদর্শন কালে একথা জানান ,
এসময় মন্ত্রী বলেন ,দেশে বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ মেট্রিক টন।  এর মধ্যে আমদানি করতে হয় প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। আমদানি নির্ভরতা কমানো ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশাল সার কারখানা কে একত্রিত করে ইউরিয়া সার উৎপাদনে নতুন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্ধারিত প্রকল্পটির উৎপাদনের যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সারের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের সুবিধায় সরকারি সংস্থাগুলো কে একসাথে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে ডিলার পর্যেয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন শিল্পমন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে পরিবেশ বান্ধব ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার প্রকল্পের সকল বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৪ সালের গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় উক্ত কারখানা দুটির স্থানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন, শক্তি সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর একটি সার কারখানা নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। সে প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বার্ষিক ৯,২৪,০০০ মে. টন ক্ষমতা সম্পন্ন পরিবেশ বান্ধব একটি নতুন গ্রানুলার ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে “ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প” শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৫৩% সম্পন্ন হয়েছে। অন্য কোন ধরণের বাঁধা না আসলে প্রকল্পটি আগামী ২০২৩ এর ডিসেম্বর শেষ হবে। বর্তমানে প্রকল্পে ৭২৬ জন বিদেশীসহ মোট ২৯৪৮ জন জনবল কাজ করছে। এরমধ্যে জাপান চায়না, ইন্ডিয়া, মেক্সিকো, সিংগাপুর, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইটালি, ফিলিপিাইন, রাশিয়ার প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান রয়েছেন। নতুন এই সারকারখানাটি স্থাপিত হলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি সার আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার প্রকল্প পরিচালক মো: রাজিউর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রকল্প পরিদর্শন কালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ মো: এমদাদুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আফসানা চৌধূরী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।