কোর্ট হিল না পরীর পাহাড়’ নির্ধারণ করতে আদালতে মামলা

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকার নাম কোর্ট হিল না পরীর পাহাড় হবে তা নির্ধারণ করতে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সদর প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ ইসরাত জাহান নাসরিনের আদালতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে মামলাটি করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন।

মামলাটির পক্ষ করা হয়েছে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান, সহকারী কমিশনার ভূমি (বাকলিয়া) আতিকুর রহমান।

চট্টগ্রামের আদালত ভবনের কোর্ট হিলকে পরীর পাহাড় লেখার ওপর কেন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে শোকজ জারি করেছেন আদালত। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির করা মামলায় চট্টগ্রাম প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইছরাত জাহান নাসরিন এ আদেশ দেন। আদালত ৪ বিবাদীকে তিনি দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন আমার সময়কে বলেন, চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকাটি কোর্ট হিল হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর কাছে পরিচিত। এখানে সরকারি ডাকঘর, সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকাণ্ডে কোর্ট হিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সরকারি সব নথিতে কোর্ট হিল লেখা থাকলেও বর্তমান জেলা প্রশাসক যোগদানের পর থেকেই কোর্ট হিলের পরিবর্তে পরীর পাহাড় নাম প্রতিষ্ঠা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তাই আমরা কোর্ট হিলকে পরীর পাহাড় লেখার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আদালত শুনানি শেষে মামলার বিবাদীদের আগামী তিন দিনের মধ্যে পরীর পাহাড় লেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষে শুনানি করেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এনামুল হক, সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আখতার মোশতাক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন।

আরজিতে শতবর্ষের কোর্ট হিল হিসেবে পরিচিত এবং সরকারি বিভিন্ন দলিলপত্রে এ পাহাড় কোর্ট হিল হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বর্তমান জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাহাড়টিকে কোর্ট হিলের পরিবর্তে পরীর পাহাড় লেখা হচ্ছে। আরজিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রামের কোর্ট হিলে প্রথম যে লাল দালানটি হয় সেটিকে চট্টগ্রামবাসীসহ দেশের মানুষ কোর্ট বিল্ডিং হিসেবেই চেনে। আর পাহাড়টিকে কোর্ট হিল বলেই সরকারি বেসরকারি দলিলপত্রে লেখা হয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে, ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক অনুমোদনপত্রে এটিকে অতীতের ধারাবাহিকতায় কোর্ট হিল উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, এ মামলার ৩ নম্বর বিবাদী নাজমুল আহসান আইনজীবী সমিতির সঙ্গে ২০১৪ সালের করা এক চুক্তিতে কোর্ট হিলকে ‘কোর্ট হিল’ উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসক এ বছরের ৮ আগস্ট থেকে কোর্ট হিল শব্দের পরে বন্ধনীবদ্ধ (ব্রাকেট) করে পরীর পাহাড় লেখা শুরু করেছেন। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই কোর্ট হিলকে পরীর পাহাড় লেখার ওপর বিবাদীদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত বিকেলে চার বিবাদীর বিরুদ্ধে শোকজ (কারণ দর্শানো) জারি করেন।