কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-জাকার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: (১৯ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।  এ সময় উভয় মন্ত্রী এ ব্যাপারে একমত হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এল পি মারসুদির সঙ্গে আলাপকালে  উভয় মন্ত্রী কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বছর যথাযথভাবে উদযাপন করতে সম্মত হন।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং এ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন।

ড. মোমেন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা খুবই সন্তোষজনক।

এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির দ্রুত সমাপ্তির উপর জোর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ার আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বিদ্যমান ভারসাম্যহীনতা কমানোর ওপর জোর দেন।

এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী  মারসুদি গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তার জন্য ইন্দোনেশিয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার কাছে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তিনি এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান আনতে ইন্দোনেশিয়া এবং আসিয়ানের অব্যাহত সমর্থনের জন্য অনুরোধ করেন।

ড. মোমেন আরও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও বেশি মিথস্ক্রিয়া করতে চায় কারণ আসিয়ানের কিছু সদস্যের সঙ্গে স্পন্দনশীল বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থী হওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চান। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন জানিয়ে আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে বৃহত্তর সম্পৃক্ততা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

ড. মোমেন বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন। উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।