কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস পালন করলো গনপূর্ত বিভাগ

এ,জে,সুজন কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ১১ ডিসেম্বর ছিল কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর এ দিনে মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া পাক হানাদার মুক্ত হয়। কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস-২০২১ উপলক্ষে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নেতারা গনপূর্তের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া স্বাধীনতার স্মৃতি স্তম্ভে ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তর্বক করে।

২৫ মার্চ ভয়াল কালো রাতে মেজর শোয়েবের অধিনায়কত্বে এবং ক্যাপ্টেন শাকিল, ক্যাপ্টেন সামাদ ও লে. আতাউল্লাহ’র উপ-অধিনায়কত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৭ বেলুচ রেজিমেন্ট এ কোম্পানির ২১৬ জন সদস্য যশোর সেনানিবাস থেকে কুষ্টিয়ায় এসে কয়েক খন্ডে বিভক্ত হয়ে পুলিশ লাইন, জিলা স্কুল, টেলিগ্রাফ অফিস, সদর থানা ও আড়ুয়াপাড়া ওয়ারলেস অফিসে অবস্থান নেন।

তারা দু’একটি ছাড়া শহরের সকল টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ২৬ মার্চ শহরে একনাগাড়ে ৩০ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে ও সশস্ত্র টহল দিতে থাকে। তবে কুষ্টিয়ার মানুষ কারফিউ ভঙ্গ করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে এবং সেনা চলাচলে বিঘ্নের সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এ সময় রনি রহমানসহ বেশ কয়েকজন পাকসেনার গুলিতে প্রাণ হারান।

কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধে রনি রহমান প্রথম শহীদ। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসে কুষ্টিয়ায় ছোট বড় অনেকগুলি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ডিসেম্বরের শুরু থেকে পাক সেনা খেদাও ¯স্লোগানে মুক্তিযোদ্ধারা সেনা ঘাঁটিগুলোয় আক্রমণ শুরু করে।

১০ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ থেকে ট্যাংক বহর নিয়ে কুষ্টিয়া শহরে প্রবেশ করেই পাকিস্তানি বাহিনীর অ্যামবুশের মুখে পড়লে শুরু হয় যুদ্ধ। আর এটাই ছিল হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ। এখানে নির্মম মৃত্যু ঘটে দুই শতাধিক মিত্র সৈনিকের। শুরু হয় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলা। বিধ্বস্ত হয় পাক হানাদারদের দুর্গ। এ লড়াইয়ে যোগ দেয় মুক্তিযোদ্ধাসহ জেলার সাধারণ মানুষ।

তোপের মুখে ১১ ডিসেম্বর প্রত্যুষে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী। মুক্ত হয় কুষ্টিয়া। শত্র“মুক্ত কুষ্টিয়াতে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের জোনাল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে অফিসিয়ালি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে জোনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি এম শামসুল হককে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার দেন।

মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার কবি, ছাত্র, সাহিত্যিক, শিল্পী, লেখকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া হাউজিং এর খেলোয়াড় সোহরাওয়ার্দী, শিক্ষকদের মধ্যে ইসলামিয়া কলেজের অধ্যাপক দূর্গাদাস সাহা প্রমুখ শহীদ হন। সেদিনের কুষ্টিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ইতিহাস আজো মানুষের মনের মণিকোটায় চির ভাস্কর হয়ে আছে।

১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়াবাসির জন্য বিশেষ একটি দিন তাই এই দিনটিকে স্বরনীয় করে রাখতে ও সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা গ্যাপন ও মাতৃভুমির প্রতি সম্মান জনাতে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়া স্বাধীনতার স্মৃতি স্তম্ভে ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তর্বক অর্পন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের সুযোগ্য নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জাহিদুল, কুষ্টিয়া গণপূর্ত সিবিএর সভাপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ও কুষ্টিয়া গণপূর্ত সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুন্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমানসহ কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন৷