কাশিমপুরে অটোরিক্সা চালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ৫

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাশিমপুর জিএমপি থানাধীন লোহাকৈর মাজারের পুকুরে থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ গত ১২ ফেব্রæয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে। পরবর্তীতে কাশিমপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পিবিআই এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় সনাক্ত করে। জিএমপির মিডিয়া সেল থেকে প্রেস রিলিজে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ভিকটিমের নাম হুমায়ুন কবির। রংপুর সদও উপজেলার কাটাবাড়ী গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে। তার পরিবার জানায় যে, গত ০৯ ফেব্রæয়ারি ২০২২ ইং তারিখে ভিকটিম হুমায়ুন কবির বেলা পৌনে বারটায় ইজিবাইক নিয়ে  গাজীপুর নগরীর দেশীপাড়ার বাসা হতে বের হলে আর ফিরে আসেনা বাসায়। পরিবারের তথ্যসূত্র ব্যবহার করে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের কাজ শুরু করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত আলমগীর (৩০) কে  আমবাগ, কোনবাড়ী ও শামসুল (৩২) কে পাইনশাইল, কাশিমপুর  এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টুকু ও আল আমিন’কে বরিশালের উজিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও রফিককে সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততাসহ লোমহর্ষ ঘটনার  বর্ননা করে। আসামীরা বর্ননায় জানায়, গত ০৯ ফেব্রæয়ারি ২০২২ ইং তারিখ রাত আনুমানিক আট ঘটিকায় ভিকটিম হুমায়ুন অটোরিক্সা নিয়ে সালনা ব্রিজের কাছে অবস্থানকালে আসামি আল-আমিন (ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ছদ্মবেশী ঝালমুড়ি বিক্রেতা ) এর কাছ থেকে ঝালমুড়ি কিনে খায় । কৌশলে আল আমিন ঝালমুড়ির সাথে ঘুমের ওষুধ (লিকুইড) মিশিয়ে নিহত অটোচালক হুমায়ুনের কাছে বিক্রি করে এবং ঝালমুড়ি খেয়ে ভিকটিম হুমায়ুন যাত্রী হিসেবে শামসুল ও টুকু কে নিয়ে অটোরিক্সায় করে চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে শিববাড়ি মোড়ে এসে ঘুরিয়ে চৌরাস্তা হয়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাছে আসলে ভিকটিম অচেতন হয়ে যায়। আসামী শামসুল অটো নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। অন্যদিকে যাত্রী বেশে শামসুল,  টুকু ওরুফে হাফিজ (মূল হোতা) অন্য আসামীদের সাথে আলমগীরের সিএনজিতে উঠে ভিকটিমের ইজিবাইক অনুসরণ করে। কোনাবাড়ীর ফ্লাইওভারের কাছ থেকে আসামীরা ভিকটিমের অটোরিক্সা নিয়ে মৌচাক পার হয়ে লোহাকৈর মাজার রোডের নিকটে পৌছালে তারা ভিকটিমের পকেট হতে টাকা ও মোবাইল রেখে অটোরিক্সা থেকে রাস্তায় পাশে ফেলে অটোরি´া নিয়ে কাশিমপুর থানার জিরানী এলাকায় চলে যায় । অটোরিক্সা রেখে রাত বারটার দিকে ভিকটিমের অবস্থা দেখতে আলমগীরের সিএনজি যোগে আসামীরা লোহাকৈর মাজারের নিকট আসে, সেখানে ভিকটিমকে চায়ের দোকানের সামনে সিগারেট খেতে দেখে। আসামীগণ ভিকটিমকে দেখে চিনে ফেলে এবং পরবর্তীতে ঝামেলা হতে পারে এই ভেবে চায়ের দোকান বন্ধ হলে আসামীর ভিকটিমকে কৌশলে ডেকে পুকুরঘাটে নিয়ে ধাক্কা মেরে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলো আলমগীর (৩০), কুমিল্লা জেলার, মুরাদনগর উপজেলার, লক্ষীপুর গুচ্ছগ্রামের, খোরশেদ আলমের ছেলে। শামসুল (৩২), পাবনা জেলার, আতাইকোলা উপজেলার, বাউখোলা ঘোনাপাড়া গ্রামের, নুরুল ইসলামের ছেলে। মোঃ হাফিজুর রহমান, ওরুফে টুকু ওরুফে হাফিজ, বরিশাল জেলার, উজিরপুর উপজেলার, বড়তা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। মোঃ আল মামুন সরদার ওরুফে আল-আমীন, বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার, গাববাড়ী গ্রামের আবদুল হাকিম সরদারের ছেলে। রফিকুল ইসলাম (৩৪), নেত্রকোনা জেলার, কেন্দুয়া উপজেলার পালেরারা গ্রামের মৃত আবদুর রশিদেও ছেলে। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত  আসামীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে। এছাড়াও লুণ্ঠিত অটোরিক্সা, ভিক্টিমের মোবাইল, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি, বিভিন্ন সময়ে লুণ্ঠিত বিভিন্ন ইজিবাইকের অংশসহ, ঝাল-মুড়ি বিক্রির উপকরণ, অটোরিকশার খোলা কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্র ও রঙ করার উপকরণ জব্দ করে পুলিশ।