কাঁকড়া শিকারে গিয়ে নিজেই শিকারে পরিণত হলেন

গিয়েছিলেন শিকার করতে। নিজেই পড়লেন শিকারির কবলে। ফিরলেন ক্ষত-বিক্ষত লাশ হয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:জীবিকার তাগিদেই সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার করতে ঢুকেছিলেন সাতক্ষীরার মুজিবর রহমান। কিন্তু খাদ্য সংকটে পতিত বাঘও বেরিয়েছিল জীবনের তাগিদে। বাঘের শিকার হয়ে নিথর দেহে ফিরলেন কাঁকড়া শিকারি মুজিবর।

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষে আয়ের প্রধান উৎস সুন্দরবন। মধু আহরণ, কাকড়া ও মাছ ধরতে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বনজীবীরা। জীবন নিয়ে ফিরতে পারবেন কি না সেই নিশ্চয়তা নেই উপকূলীয় এ বনজীবীদের। মুজিবর রহমান ছিলেন সেই বনজীবীদের একজন।

জীব-বৈচিত্র্যের সঙ্গে খাদ্যচক্রের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবীড়। শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই নয়, জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজন জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা। সুন্দরবনসহ দেশের অধিকাংশ বনাঞ্চলে শিকারিদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। অর্থের লোভে নির্বিচারে শিকার করছে বাঘ, হরিণ, হাতি থেকে শুরু করে প্রায় সব প্রাণী। রেহায় পাচ্ছে না গিরগিটি-তক্ষক, সাপসহ সরিসৃপ প্রাণীরাও। বনের পশু-পাখি শিকার করায় খাদ্য সংকটে পড়ছে মাংসাশি প্রাণীরা। ফলে বনজীবীদের ওপর ও লোকালয়ে হামলা করছে পশুরা। হুমকির মুখে সুন্দরবননির্ভর বনজীবীরা।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বন বিভাগ থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে সুন্দরবনে কাকড়া ধরতে গিয়েছিলেন মুজিবর রহমান। তবে এবার আর জীবন নিয়ে ফিরতে পারেননি এ বনজীবী। বাঘের শিকারে পরিণত হয়ে জীবন হারাতে হলো তাকে। বিকেল ৪টার দিকে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের পায়রাটুনি খালে কাঁকড়া ধরার সময় বাঘের আক্রমণে নিহত হন তিনি। বাঘের আক্রমণের ১৬ ঘণ্টা পর মুজিবরের মরদেহটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। মুজিবর রহমান শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের আক্কাজ আলী গাজীর ছেলে।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহম্মেদ জানান, মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে পায়রাটুনি খাল এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উপকূলে ফিরিয়ে আনতে ৪টা বেজে যায়। ফিরিয়ে আনার পর মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ কর্মকর্তা বলেন, মুজিবর রহমানের ঘাড়ে আক্রমণ করে বাঘটি। এর বনের ভেতরে নিয়ে যায়। মুজিবরের ডান পা পুরোটা গেছে বাঘের পেটে।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশন অফিসার হারুন-অর রশিদ জানান, বনবিভাগ, কোস্টগার্ড ও টাইগার টিমের সদস্যরা একযোগে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে গহীন বনের মধ্যে মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে মরদেহটি ফিরিয়ে আনা হয় নৌকায়।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্চের কর্মকর্তা এমএ হাসান বলেন, কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে মুজিবর রহমান তিন দিন আগে কাঁকড়া ধরতে একটি দলের সঙ্গে সুন্দরবন গিয়েছিলেন। পায়রাটুনি খালে বাঘের আক্রমণে নিহত হন তিনি। একই স্থানে ২০২০ সালে একজন মৌয়ালও বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছিলেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শেষে নিহত মুজিবর রহমানের পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।