করোনা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা অপরিসীম-ঈদগাঁওতে সর্ব ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের কর্মশালা

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: চলমান মহামারী করোনা মোকাবেলায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় নেতারা হচ্ছেন সমাজের অতি সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। সমাজের সর্বস্তরের গণমানুষ তাদের কথা সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করেন। করোনা প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। মসজিদ-মন্দির বা অন্যান্য উপাসনালয়ে সমাজের সর্বজন এসব শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ করোনার ঝুঁকি ও ভয়াবহতার ব্যাপারে তাদের অনুগতদের সচেতন করতে পারেন। আর এ সচেতনতাই সমাজের অনেককে করোনা থেকে সুরক্ষা দেবে।  ২৭ জুন ঈদগাঁওতে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। কক্সবাজারের স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অর্ণব কক্সবাজার’ কর্মশালাটির আয়োজন করে। বাজারের একটি মিলনয়তনে সর্ব ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও নতুন অফিস জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মনছুর আলম। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঈদগাঁও প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম। তিনি ঈদগাঁও উপজেলাবাসুর কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ায় সংস্থাটির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতামত উপস্থাপন করেন নাপিতখালী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও আলেমে দ্বীন মাওলানা মনছুর আলম এবং ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের পুরোহিত পন্ডিত স্বপন চক্রবর্তী। শুরুতে কর্মশালার লক্ষ ও উদ্দেশ্য ভিত্তিক স্বাগত বক্তব্য দেন অর্ণব কক্সবাজার এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোঃ নুরুল আজিম। অর্থায়নকারী সংগঠন এডাব এর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির ইনফরমেশন শেয়ারিং প্রোভাইডর মিঠুন দত্ত।

কোভিড-১৯  প্রতিরোধঃ ঝুঁকি নিরূপণ, যোগাযোগ সম্পৃক্তকরণ ও টিকা বার্তা যোগাযোগ জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় কোভিড-১৯  সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সহযোগী বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে ছিল দাতা সংস্থা ইউনিসেফ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও এডাব কক্সবাজার।

বক্তারা আরো বলেন, করোনার টিকা নেয়া আমাদের নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব। টিকার পরবর্তী উপসর্গ সমূহ সম্পর্কে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। টিকা সম্পর্কে সকল ধরনের গুজব ও কুসংস্কার পরিহার করতে হবে।

আয়োজক সংস্থার তৈরিকৃত প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ করোনা মহামারীতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে টিকা নেয়ার ফলে এ ঝুঁকি অনেকটা কমে এসেছে। সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে করোনার টিকা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই কুসংস্কার ও গুজবের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের টিকা নিতে হবে এবং অন্যদের টিকা নিতে উৎসাহিত করতে হবে। এর আগে অংশগ্রহণকারী সর্ব ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ করোনার দলীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে করোনা মোকাবেলার কর্মকৌশল ও করণীয় প্রণয়ন করেন। যা উপস্থাপন করেন দলীয় সদস্যরা।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামু টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ‘এই বাংলা’ অনলাইনের জেলা প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদ, অর্ণব কক্সবাজার এর স্বেচ্ছাসেবক যথাক্রমে আব্দুল মান্নান নিশাত, শাহারিয়া ইসাদ নিফা, মোঃ আব্দুল্লাহ ও শারমিন সোলতানা রুমি।

অনুষ্ঠানে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ঘনঘন হাত ধৌত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের সময়সীমা হচ্ছে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তথা ছয় মাস। কর্ম এলাকা হচ্ছে জেলার দুইটি উপজেলা তথা রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার সকল ইউনিয়ন।

ইতোমধ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গ্রাম্য ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ প্রদান সহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।